Views Bangladesh Logo

মাদ্রাসার শিক্ষকের আপত্তিকর আচরণ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরার কয়েকটি ফুটেজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের কয়েকজন দাবি করেছেন, সিসিটিভির লাইভ ফিডে তাঁরা ওই দৃশ্য দেখেছেন। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন শিক্ষকের এমন আচরণ অনভিপ্রেত এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে বোরকা পরা এক নারীর সঙ্গে টেবিলের দুই পাশে বসে কথা বলছেন মাওলানা এহসানুল হক। কিছুক্ষণ পর তিনি টেবিল ছেড়ে ওই নারীর চেয়ারের পেছনে যান। পরে কয়েক দফায় ওই নারীর পাশে ও পেছনে গিয়ে দাঁড়াতে দেখা যায় তাঁকে।

ফুটেজের সময়সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে তিনি আবার ওই নারীর কাছে যান। পরের এক মিনিটে কয়েকবার তাঁর কাছাকাছি অবস্থান করেন এবং স্পর্শ করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের আরেকটি ফুটেজেও ওই নারীকে কক্ষে দেখা যায়। সেখানে শিক্ষককে দরজার দিকে খেয়াল রেখে কয়েকবার তাঁর কাছে যেতে দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাদ্রাসার প্রভাষক নাজনিন নাহার বলেন, ছুটির পর অফিস কক্ষের মনিটরে তিনি একটি কক্ষে এক নারী ও পুরুষের ‘অপ্রীতিকর আচরণ’ দেখতে পান। সে সময় মাদ্রাসায় অনার্স পরীক্ষা চলছিল। বিষয়টি তিনি আরেক শিক্ষক মুবাশশেরা ম্যাডামকে দেখান। পরে ওই দুজন কক্ষ থেকে বের হলে তিনিও বিষয়টি লক্ষ্য করেন বলে জানান নাজনিন নাহার।

শিক্ষক মেহেবুবে আলম জেবিন বলেন, সিসিটিভিতে যে দৃশ্য তাঁরা দেখেছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিকর। একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মাদ্রাসা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিকভাবে যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত।

এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখতে কোনো বাধা নেই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা এহসানুল হক।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ