Views Bangladesh Logo

নুসরাত হত্যা: ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়, সোমবার হাইকোর্টে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে সোমবার (২৪ আগস্ট)।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে। পরে গত ২৮ জুলাই নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ অন্য আইনজীবীরা।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের পরিবার থানায় অভিযোগ করে।

অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেওয়া হলেও নুসরাত ও তার পরিবার তা প্রত্যাহার করেনি। এর কয়েক দিন পর ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসাছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরে এটি ১৪০/১৯ নম্বর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন। পরে ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য নেওয়া হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হয়। এখন সোমবার হাইকোর্টের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে নুসরাতের পরিবারসহ মামলার সংশ্লিষ্টরা।

হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি সাজা পরিবর্তন বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসবে—সোমবারই তা জানা যাবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ