Views Bangladesh Logo

নরওয়ে ১ - ইংল্যান্ড ১

নরওয়ে-ইংল্যান্ড ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা

Sports Desk

ক্রীড়া ডেস্ক

৪৬ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু, আক্রমণে নিয়ন্ত্রণ ফেরাতে মরিয়া ইংল্যান্ড

বিরতি শেষে রেফারির বাঁশিতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। সমতায় থাকা ম্যাচে শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্তে নিজের স্বাভাবিক অবস্থানে খেলছেন বুকায়ো সাকা, আর মাঝমাঠের ইনসাইড রাইট চ্যানেলে নেমে এসেছেন এবেরেচি এজে। কৌশলগত এই বিন্যাসে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার লক্ষ্য থ্রি লায়ন্সের।


১১ জুলাই কি ইংল্যান্ডের অভিশপ্ত দিন? ইতিহাস আবারও একই প্রশ্ন তুলছে!

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে ১১ জুলাই বারবার ফিরে এসেছে হতাশার প্রতীক হয়ে। ২০১৮ সালের এই দিনে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙেছিল থ্রি লায়ন্সের। এরপর ২০২১ সালের ১১ জুলাই ইউরো ২০২০-এর ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হারতে হয় তাদের।



আর ২০২৬ সালের ১১ জুলাইও যেন সেই পুরোনো দুঃস্বপ্নেরই পুনরাবৃত্তির আভাস দিচ্ছে। নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচে একসময় পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। যদিও পরে তারা সমতায় ফিরেছে, তবুও ১১ জুলাইয়ের তিক্ত ইতিহাস আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত ফল কী হয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই দিনটি ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে, নাকি নতুন ইতিহাস রচনার দিন হয়ে উঠবে।



বিরতি | নাটকীয় প্রথমার্ধ শেষে  ১-১ সমতায় নরওয়ে-ইংল্যান্ড

প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই উপহার দিয়েছে দুই দল। শুরুতে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড, তবে ৩৭তম মিনিটে হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরাপ গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন। গোলটি নিয়ে ইংল্যান্ড ফাউলের দাবি তুললেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।



পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নরওয়ের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরান। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।


৪৫+২ মিনিট | বেলিংহামের গোলে বিরতির আগেই সমতায় ইংল্যান্ড

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অবশেষে সমতায় ফেরে ইংল্যান্ড। নরওয়ের রক্ষণভাগ বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগ লুফে নেন জুড বেলিংহাম। দারুণ স্থিরতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। বেলিংহ্যামের এই গুরুত্বপূর্ণ গোলে ১-১ সমতায় ফেরে থ্রি লায়ন্স। বিরতির ঠিক আগে করা এই গোল ইংল্যান্ডকে নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দেয়, আর নরওয়ের জন্য এটি বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তাই নতুন করে শুরু হবে দুই দলের লড়াই।


৪৫+১ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো ৪ মিনিট, নাটকীয় সমাপ্তির অপেক্ষা

নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হতেই চতুর্থ কর্মকর্তা প্রথমার্ধে আরও ৪ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের ঘোষণা দেন। ফলে বিরতির আগে দুই দলের সামনেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নরওয়ে এক গোলের লিড ধরে রেখে বিরতিতে যেতে চাইবে, আর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টায় আক্রমণের তীব্রতা বাড়াবে ইংল্যান্ড। শেষ কয়েক মিনিটে ম্যাচে আরও নাটকীয় মুহূর্তের আভাস মিলছে।


৪১ মিনিট | রাইয়ারসনের ফাউলে ফ্রি কিক পেল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ৪১তম মিনিটে নরওয়ের ডিফেন্ডার জুলিয়ান রাইয়ারসনের ফাউলের শিকার হয় ইংল্যান্ড। আক্রমণ থামাতে গিয়ে নিয়মভঙ্গ করলে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে সুবিধাজনক অবস্থান থেকে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্যবধান সমতায় ফেরাতে সেট পিস থেকে ভালো একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে থ্রি লায়ন্সের সামনে।



৩৬ মিনিট | কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে শেল্ডেরাপের গোল, এগিয়ে গেল নরওয়ে

ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মাঝমাঠের কাছাকাছি বিপজ্জনক এলাকায় হ্যারি কেইনের কাছ থেকে বল কেড়ে নেয় নরওয়ের খেলোয়াড়রা। কেইনকে ফাউল করা হয়েছে কি না, সে দাবি উঠলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।



সেই সুযোগই কাজে লাগান আন্দ্রেয়াস শেল্ডেরাপ। ঢিলে হয়ে যাওয়া বল দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে জালে পাঠান তিনি। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে। গোলটি নিয়ে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেলেও রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে, আর ম্যাচে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় নরওয়েজিয়ানরা।


৩১ মিনিট | গর্ডনকে ফাউল, আরেকটি বিপজ্জনক ফ্রি কিক পেল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ৩১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের অ্যান্থনি গর্ডনের দৌড় থামাতে ফাউল করেন নরওয়ের জুলিয়ান রিয়েরসন। দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া গর্ডনকে থামাতে গিয়ে নিয়মভঙ্গ করলে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। এর ফলে আরেকটি সুবিধাজনক অবস্থান থেকে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। সেট পিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করে ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করবে থ্রি লায়ন্স, আর নরওয়ের রক্ষণভাগকে থাকতে হবে বাড়তি সতর্ক।



২৮ মিনিট | বেলিংহামকে ফাউল, বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পেল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ২৮তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামকে ফাউল করে বসেন নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আজের। বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় শক্ত ট্যাকলে বেলিংহ্যামকে থামালে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি বিপজ্জনক অবস্থান থেকে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। সেট পিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে থ্রি লায়ন্সের সামনে।



২৪ মিনিট | হাইড্রেশন ব্রেক, গোলের অপেক্ষায় জমে উঠেছে লড়াই

রেফারির বাঁশিতে ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক। প্রথম ২৪ মিনিটে বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই হ্যারি কেইন মাঝমাঠে নেমে খেলা তৈরি করার চেষ্টা করছেন। পঞ্চম মিনিটে তার লব পাস জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশে গেলেও বলের গতি বেশি হওয়ায় তা সহজেই সংগ্রহ করেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড।

১০তম মিনিটে ননি মাদুয়ের হ্যান্ডবলের কারণে ফ্রি কিক পায় নরওয়ে। এরপর ১৫তম মিনিটে কর্নার আদায় করে ইংল্যান্ড, যা থেকে রক্ষণে চাপে পড়ে নরওয়ে। ১৯তম মিনিটে অ্যান্ডারসনের দারুণ ক্রস থেকে বেলিংহ্যাম গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। একই আক্রমণে মাদুয়েকেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত কেউই বলের নাগাল পাননি। এখনও গোলশূন্য রয়েছে ম্যাচ। তবে ধারাবাহিক আক্রমণ, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও নরওয়ে রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে গোলবঞ্চিত রাখতে সক্ষম হয়েছে।


১৯ মিনিট | বেলিংহ্যামকে খুঁজে দুর্দান্ত ক্রস, অল্পের জন্য গোল পেল না ইংল্যান্ড

ম্যাচের ১৯তম মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তোলে ইংল্যান্ড। বাম দিক দিয়ে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে এসে পেনাল্টি স্পটে নিখুঁত একটি ক্রস বাড়ান অ্যান্ডারসন। সেখানে ছুটে আসছিলেন জুড বেলিংহ্যাম, তবে অল্পের জন্য বলে স্পর্শ করতে পারেননি তিনি।



একই সময়ে ননি মাদুয়েকেও গোলমুখে দৌড় দিয়েছিলেন, কিন্তু ক্রসটি তাকেও এড়িয়ে যায়। ফলে সম্ভাবনাময় এই আক্রমণ থেকেও গোলের দেখা পায়নি ইংল্যান্ড। তবে ধারাবাহিক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলেছে থ্রি লায়ন্স।


১৫ মিনিট | কর্নার পেল ইংল্যান্ড, চাপে নরওয়ের রক্ষণ

ম্যাচের ১৫তম মিনিটে কর্নার আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। ক্রিস্টোফার আজারের ক্লিয়ারেন্সে বল গোললাইনের বাইরে চলে গেলে কর্নারের সংকেত দেন রেফারি। সেট পিস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে চাইবে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে কর্নার থেকে কোনো বিপদ এড়াতে নরওয়ের রক্ষণভাগকে থাকতে হবে বাড়তি সতর্ক। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড এবার সেই চাপকে গোলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে।



১০ মিনিট | হ্যান্ডবলে ফ্রি কিক হারাল ইংল্যান্ড

ম্যাচের ১০তম মিনিটে হ্যান্ডবলের কারণে আক্রমণের গতি থেমে যায় ইংল্যান্ডের। বল নিয়ন্ত্রণের সময় ননি মাদুয়ের হাতে বল লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি। ফলে ফ্রি কিক পায় নরওয়ে। সম্ভাবনাময় আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড, আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নরওয়ের রক্ষণভাগ।


৫ মিনিট | কেইনের পাসের লক্ষ্য ছিলেন বেলিংহ্যাম, সহজেই বল কুড়িয়ে নিলেন নিল্যান্ড

ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মাঝমাঠে নেমে বলের দখল নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশে দারুণ একটি লব পাস বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে পাসে একটু বেশি জোর হয়ে যাওয়ায় বল সরাসরি চলে যায় নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ডের হাতে। ফলে সম্ভাবনাময় একটি আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই থেমে যায় ইংল্যান্ডের।



প্রথম মিনিট | ম্যাচ শুরু, তারকাদের লড়াইয়ে জমে উঠল মহারণ

রেফারির বাঁশিতে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। ফুটবল বিশ্বের আরও একটি মহারণের পর্দা উঠেছে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে গতি, উত্তেজনা আর কৌশলের মিশেল। মাঠে একদিকে বিশ্বসেরা তারকারা, অন্যদিকে জয়ের স্বপ্নে উজ্জীবিত প্রতিপক্ষ। শুরু থেকেই প্রতিটি বলের দখল নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।


বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ নিয়ে মাঠে নেমেছেন দুই দলের সেরা তারকারা। গোলদাতা, অ্যাসিস্টদাতা এবং ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে সক্ষম ফুটবলারদের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই জমে উঠেছে লড়াই। প্রথম মিনিট থেকেই দুই দলই ইতিবাচক ফুটবল খেলার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই তারকাখচিত লড়াইয়ে কে প্রথম প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যেতে পারে।


নরওয়ে-ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল: হালান্ড-কেইন দ্বৈরথে সেমিফাইনালের হাতছানি

বিশ্বকাপের শেষ আটে আজ মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় (স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৫টা)। জয়ী দল পা রাখবে সেমিফাইনালে, যেখানে অপেক্ষায় থাকবে আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ড। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপের দুটি অল-ইউরোপিয়ান কোয়ার্টার ফাইনালের একটি এটি, আর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে নরওয়ে ও ইংল্যান্ড।




মুখোমুখি লড়াইয়ে বহু আগে থেকেই এগিয়ে ইংল্যান্ড

১৯৩৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দ্বৈরথের ইতিহাস ঘাঁটলে স্পষ্ট এগিয়ে থ্রি লায়ন্সরাই। এ পর্যন্ত ১২ বারের সাক্ষাতে ইংল্যান্ড জিতেছে সাতবার, নরওয়ে মাত্র দুইবার, ড্র হয়েছে বাকি তিন ম্যাচ। শুরুর দিকে একেবারে একতরফা ছিল এই লড়াই—১৯৩৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রথম পাঁচ সাক্ষাতেই জিতেছিল ইংল্যান্ড, প্রতিবারই অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে। নরওয়ের প্রথম জয়টি আসে ১৯৮১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে, ২-১ গোলে। এরপর ১৯৯৩ সালে আরেকটি বাছাইপর্বের ম্যাচে ২-০ গোলে জেতে নরওয়ে—যা এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের সর্বশেষ জয়। এরপর থেকে টানা চার ম্যাচে অপরাজিত ইংল্যান্ড, যার মধ্যে ২০১২ ও ২০১৪ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচেই ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। তবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এই প্রথম মুখোমুখি হওয়ায় ইতিহাসের হিসাব-নিকাশ আজ কতটা কাজে দেবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

নরওয়ের রূপকথার মতো পথচলা

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। গ্রুপ আই-তে ফ্রান্সের কাছে দুর্বল একাদশ নিয়ে খেলে ৪-১ গোলে হারলেও রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় স্টেল সোলবাক্কেনের দল। এরপর রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষদিকের গোলে জয় ছিনিয়ে আনে তারা, আর রাউন্ড অব ১৬-তে ঘটে আসল চমক—পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নরওয়েজিয়ানরা। এই দুই নকআউট ম্যাচেরই নায়ক আর্লিং হালান্দ, ব্রাজিল ম্যাচে করেছেন জোড়া গোল। চার ম্যাচে সাত গোল করে বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, সোনার বুটের দৌড়ে আছেন এমবাপ্পে ও মেসির সঙ্গে একই কাতারে। শেষ ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে টানা গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার, যার মধ্যে ২৭টি গোল। আজকের ম্যাচে গোল পেলে ১৯৭০ সালের পর জার্মানির গার্ড ম্যুলারের পর প্রথম ইউরোপীয় হিসেবে নিজের প্রথম পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়বেন হালান্ড।

ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস যাত্রা

গ্রুপ এল-এ ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র বাদ দিলে দাপটের সঙ্গেই শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে ইংল্যান্ড। রাউন্ড অব ৩২-এ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও হ্যারি কেইনের দেরিতে আসা দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। এরপর রাউন্ড অব ১৬-তে মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত এস্তাদিও আজতেকায় স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ঘটে নাটকীয়তম অধ্যায়—জারেল কুয়ানসাহর লাল কার্ডে দ্বিতীয়ার্ধের চল্লিশ মিনিটেরও বেশি সময় দশজনে খেলেও জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় টমাস টুখেলের দল। এই ম্যাচে বল দখলে মাত্র ৩৩.২ শতাংশ সময় নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল ইংল্যান্ড—বিশ্বকাপের রেকর্ডে যা তাদের সর্বনিম্ন—তবু পাল্টা আক্রমণ আর দৃঢ় রক্ষণে ভর করে জয় ছিনিয়ে আনে দলটি। এই জয়কে ইংল্যান্ডের বড় আসরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কীর্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

দুই দলই কিছুটা সমস্যায় জর্জরিত। ব্রাজিল ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া নরওয়ের ফুলব্যাক ডেভিড মোলার ভোলফের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পূর্ণ ফিট স্কোয়াড নিয়েই মাঠে নামার কথা সোলবাক্কেনের। ইংল্যান্ডের জন্য দুঃসংবাদ, রাউন্ড অব ১৬-তে লাল কার্ড দেখায় নিষিদ্ধ জারেল কুয়ানসাহ—তার জায়গায় রক্ষণে সুযোগ পেতে পারেন রিস জেমস। এছাড়া মেক্সিকো ম্যাচ জয়ের পর উদযাপনের সময় কব্জিতে অস্বাভাবিক চোট পাওয়া জর্ডান হেন্ডারসনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন।

পরিসংখ্যানে দুই দলের বর্তমান ফর্ম

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ১০ গোল করেছে ও ১০ গোল হজম করেছে নরওয়ে—আক্রমণ ও রক্ষণ দুই দিকেই যথেষ্ট নাটকীয়তার সাক্ষী থেকেছে দলটি। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে তারা, একমাত্র হার ফ্রান্সের বিপক্ষে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড সবশেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিতেছে, একমাত্র পয়েন্ট খুইয়েছে ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে। তবে রক্ষণে কিছুটা নড়বড়ে দেখাচ্ছে থ্রি লায়ন্সদের—টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে তারা। আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে ইংল্যান্ড—যা আজকের ম্যাচে বাড়তি চাপের কারণ হতে পারে।

বাজির মাঠে সামান্য এগিয়ে থ্রি লায়ন্স

সম্প্রতি বেট৩৬৫-র হিসাবে ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে জয়ের সম্ভাবনায়, নরওয়ে ও ড্রয়ের চেয়ে কিছুটা কম দামে। পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান স্কোয়াকার মডেল অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, হালান্দ একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন, তবে ইংল্যান্ডের রক্ষণ তুলনামূলক সংগঠিত এবং বেঞ্চ শক্তি বেশি বলেই তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

হালান্ড বনাম কেইন: শেষ কথা যার


শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে দুই বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের ব্যক্তিগত লড়াই। এক পাশে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও প্রিমিয়ার লিগে ১৩২ ম্যাচে ১১২ গোল করা আর্লিং হালান্ড, যিনি জাতীয় দলের হয়েও প্রতি ৭১ মিনিটে একটি করে গোল করার রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামছেন। অন্য পাশে অভিজ্ঞতায় পোড় খাওয়া হ্যারি কেইন, যিনি এই ম্যাচে খেললে ওয়েন রুনিকে টপকে পিটার শিলটনের পরই ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার (১২০) রেকর্ড গড়বেন। ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি মিসের দুঃস্মৃতি মুছে ফেলতে আজ মুখিয়ে আছেন তিনি। দুই দলের সমর্থকরাই তাকিয়ে থাকবেন, শেষ হাসি কার মুখে ফোটে তা দেখতে—আর ফুটবলবিশ্ব অপেক্ষায় থাকবে, বিশ্বকাপের সর্বকালের অন্যতম সেরা দুই স্ট্রাইকারের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায় তা দেখার জন্য।




নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল

শুরুর একাদশ

১ ওরিয়ান নিল্যান্ড (গোলরক্ষক), ২৬ জুলিয়ান রাইয়ারসন (ডিফেন্ডার), ৩ ক্রিস্টফার আয়ের (ডিফেন্ডার), ১৭ টরবিয়র্ন হেগেম (ডিফেন্ডার), ৫ ডেভিড মোলার ভোলফে (ডিফেন্ডার), ৬ পাত্রিক বার্গ (মিডফিল্ডার), ৮ স্যান্ডার বার্গে (মিডফিল্ডার), ১০ মার্টিন ওডেগার্ড (মিডফিল্ডার), ২১ আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডেরুপ (ফরোয়ার্ড), ৭ আলেকজান্ডার সোরলথ (ফরোয়ার্ড), ৯ আর্লিং হালান্ড (ফরোয়ার্ড)। 



বদলি খেলোয়াড়

২ মর্টেন থর্সবি, ৪ লিও অস্টিগার্ড, ১১ জর্গেন স্ট্র্যান্ড লারসেন, ১২ স্যান্ডার তাংভিক, ১৩ এগিল সেলভিক, ১৪ ফ্রেডে আউরসনেস, ১৫ ফ্রেডরিক বিয়র্কান, ১৬ মার্কুস পেডারসেন, ১৮ কার্ল থরস্টভেট, ১৯ থেলে আসগার্ড, ২০ আন্তোনিও নুসা, ২২ ওসকার বব, ২৩ জেন্স হাউগে, ২৪ সন্দ্রে লাংগোস, ২৫ হাকন ফালকেনার


কোচ: স্টেল সোলবাক্কেন

ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দল


শুরুর একাদশ

১ জর্ডান পিকফোর্ড (গোলরক্ষক), ২ এজরি কনসা (ডিফেন্ডার), ৫ জন স্টোনস (ডিফেন্ডার), ৬ মার্ক গুয়েহি (ডিফেন্ডার), ৩ নিকো ও'রাইলি (ডিফেন্ডার), ৪ ডেক্লান রাইস (মিডফিল্ডার), ৮ এলিয়ট অ্যান্ডারসন (মিডফিল্ডার), ১০ জুড বেলিংহ্যাম (মিডফিল্ডার), ২০ নোনি মাদুয়েকে (মিডফিল্ডার), ১৮ অ্যান্থনি গর্ডন (মিডফিল্ডার), ৯ হ্যারি কেইন (ফরোয়ার্ড)। 



বদলি খেলোয়াড়

৭ বুকায়ো সাকা, ১১ মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, ১২ ট্রেভো চালোবাহ, ১৩ ডিন হেন্ডারসন, ১৪ জর্ডান হেন্ডারসন, ১৫ ড্যান বার্ন, ১৬ কোবি মাইনু, ১৭ মরগান রজার্স, ১৯ ওলি ওয়াটকিন্স, ২১ এবেরেচি এজে, ২২ ইভান টনি, ২৩ জেমস ট্র্যাফোর্ড, ২৪ রিস জেমস, ২৫ জেডেন স্পেন্স


কোচ: টমাস টুখেল




মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ