দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা মব বরদাস্ত করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশে চলমান তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির নামে বিশৃঙ্খলা আর বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা মব তৈরি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে রুমিন ফারহানা বিগত সময়ের গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বর্তমান সময়ে ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যানে মব সহিংসতায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যে দেশে কোনো ধরনের মব কালচার চলতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, দাবি আদায়ের জন্য রাস্তা অবরোধ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ‘সব ধরনের সহিংস ঘটনাকে মব বলা ঠিক নয়। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে হামলা বা ভাঙচুর হলে তা সংগঠিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মন্ত্রী বলেন, জনগণের দাবি জানানোর গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা করতে হবে স্মারকলিপি, সভা-সমাবেশ বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করার মাধ্যমে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রেখেই দাবি আদায় করতে হবে।
অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়ার বিষয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এটি আমাদের অঙ্গীকারনামার পাঁচ কী ছয় নম্বর দফা। এই অঙ্গীকারের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে ১৩৩টি অধ্যাদেশের সঙ্গে এটিও জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ তারিখ কমিটিতে এসব নিয়ে আলোচনা হবে। সর্বসম্মতিক্রমে জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশটি সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে। কারণ, ওটা ছিল একটা রণক্ষেত্র। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সারাদেশের মানুষ একমত।
ছাত্র-আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডে পুলিশের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের স্পেসিফিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি আইনে এবং কিছু সাধারণ আইনের অধীনে আদালতে রয়েছে। এগুলোর তদন্ত ও চার্জশিট দেওয়ার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে।
জয়নাল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে— তারা পুলিশের পোশাক পরুক অথবা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে থাকে, তবে আপনারা করবেন। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে এর বিচার করবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে