নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগেও বলেছি, এখনও বলছি—নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই।
তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছে। জরুরি যোগাযোগের জন্য সেলের টেলিফোন নম্বর ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২-৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২ ও ০২-৪৭১১৮৭০৩ এবং মোবাইল নম্বর ০১৫৫০-০৬৪২২৬ (হোয়াটসঅ্যাপ) ও ০১৫৫০-০৬৪২২৭ চালু রয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ এসব নম্বরে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকালে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।
এর আগে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, কোর কমিটির সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী প্রস্তুতি, প্রচারণাকালে সহিংসতা প্রতিরোধ, অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অগ্রগতি, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনআস্থা অর্জনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো বেআইনি আদেশ পালন, পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম কিংবা অবৈধ সুবিধা গ্রহণ থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মানবিকতা, সততা, পেশাদারত্ব ও সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ, ভোটারদের যাতায়াত ব্যবস্থা, ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে