নদীভাঙন রোধে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য দেশের কোনো ঘরবাড়ি বা প্রতিষ্ঠান যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়। আমরা দুর্নীতিকে প্রথমে সহনীয় পর্যায় এবং পরবর্তীতে শূন্য (জিরো) পর্যায়ে নিয়ে আসব। পাউবোর বস্তা বা বাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।’
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাঁচকোল সড়কটারী এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যার পূর্বেই আমরা জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশ—ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরাসরি গিয়ে টেকসই ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। উত্তর অঞ্চলের মানুষ হিসেবে এ অঞ্চলের প্রতি আমার আলাদা দায়িত্ববোধ রয়েছে।’
ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকার স্থায়ী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, এখানে ব্রহ্মপুত্রের ওপর প্রায় ৯০০ কোটি ও ৮০০ কোটি টাকার দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে নদীভাঙন একদম বন্ধ হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১০০টি বস্তা ফেলে ২০০টার বিল করার কিংবা নির্ধারিত ১৭৫ কেজির স্থলে ১৬০ কেজি ওজন দেওয়ার সুযোগ আর নেই। সরকার মানে জনগণ, তাই এই কাজের প্রতিটি টাকার হিসাব বুঝে নেওয়া আপনার নৈতিক দায়িত্ব। শুধু প্রকৌশলী বা ঠিকাদারের ওপর ভরসা না রেখে কাজের তদারকিতে আপনাদেরও নজর রাখতে হবে।’
পরিদর্শনকালে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান এবং সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসাইন কায়কোবাদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে নৌপথে চিলমারীর কাঁচকোল বাঁধ, উলিপুর উপজেলার নামাজের চর, রৌমারী উপজেলার সুখেরবাতী ও রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি এলাকার নদীভাঙন পরিস্থিতি দিনব্যাপী ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী।
মতামত দিন