Views Bangladesh Logo

বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোনো ঋণ চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই: আইএমএফ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিগত সরকারের আমলের পুরোনো ঋণ চুক্তিটি বর্তমান কাঠামোতে আর এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি মনে করছে, দেশের গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের কারণে পুরোনো আইএমএফ ফ্রেমওয়ার্কটি আইনি ও কৌশলগতভাবে অপরিবর্তনযোগ্য হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন)ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন সংস্থাটির যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক জুলি কোজাক। তিনি জানান, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে আগের প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া আলোচনার শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা বা চালুর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

জুলি কোজাক বলেন, ‘বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক দৃশ্যপটে মৌলিক পরিবর্তনের কারণে দেশটির নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন একটি অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু করা জরুরি।’

তবে সরকার পরিবর্তন হলেও বাংলাদেশ এখনো বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আইএমএফের এই মুখপাত্র জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং লাগামহীন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার মতো জটিল সংকটগুলো এখনো সমাধান করা যায়নি। ফলে নতুন যেকোনো ঋণ কর্মসূচিতে এই বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আইএমএফ ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না।

জুলি কোজাক বলেন, ‘এসব সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।’ একই সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে আইএমএফের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জুলি কোজাক ঘোষণা করেন যে, খুব শিগগিরই আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে যাবে। নতুন অন্তর্বর্তীকালীন বা স্থায়ী প্রশাসনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সেই বৈঠকে আর্থিক সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তনের মতো কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলো আলোচনার শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলে আইএমএফের কাছ থেকে নেওয়া এই ঋণ কর্মসূচির বিভিন্ন কঠোর শর্ত নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিতর্ক ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ঋণের পূর্বশর্ত ও সংস্কার বাস্তবায়নের গতি থমকে যায়, যা শেষ পর্যন্ত এই পুরোনো চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত ডেকে এনেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপের মধ্যে রয়েছে এবং টাকার মানও টানা কমছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে নতুন প্রশাসন একটি সংশোধিত ও বাস্তবসম্মত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের রূপরেখা নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ