Views Bangladesh Logo

শততম শুনানিতেও জমা পড়েনি ত্বকী হত্যা মামলার প্রতিবেদন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

দালতের শততম কার্যদিবসের শুনানিতেও নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন বা অভিযোগপত্র জমা দেয়নি তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

শুনানিতে মামলার সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন আজমেরী ওসমানের সহযোগী ইউসুফ হোসেন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ, তায়েফ উদ্দিন, মামুন মিয়া, কাজল হালদার, সাফায়েত হোসেন শিপন ও রিফাত বিন ওসমান। অন্যদিকে পলাতক দুই আসামি সুলতান শওকত ও সালেহ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন প্রদীপ ঘোষ ও জিয়াউল ইসলাম। শুনানি শেষে প্রদীপ ঘোষ বলেন, আদালতের শততম কার্যদিবস পার হলেও আজও অভিযোগপত্র জমা না পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাখিল না করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার ৯৯তম কার্যদিবসের শুনানিতে আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশের পরও কোনো অগ্রগতি হয়নি।

নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় দেড় বছর পার হয়ে গেছে এবং মামলার শততম তারিখও অতিক্রান্ত হয়েছে। এরপরও অভিযোগপত্র না দেওয়া তদন্তকারী সংস্থার চরম ব্যর্থতা। তদন্তে অগ্রগতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে র‍্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে শিগগিরই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হন। দুই দিন পর, ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-১১। পরে সুলতান শওকত ভ্রমর ও ইউসুফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সুলতান শওকত ভ্রমর জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র‍্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চার সেলে আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়েছে এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই অভিযোগপত্র আজও আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ