চট্টগ্রামে আটক ৬৩ বিদেশির কারও কাছে পাসপোর্ট মেলেনি: পুলিশ
চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণায় জড়িত থাকার সন্দেহে আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিকের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তাদের সবার পাসপোর্ট একজন ব্যক্তির কাছে জমা রয়েছে এবং ওই ব্যক্তিই তাদের থাকার জন্য ভবনটি ভাড়া করে দিয়েছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহাম্মেদ।
তিনি বলেন, খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার যে ভবন থেকে ৬৩ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, সেটির মালিক একজন প্রবাসী। প্রায় দেড় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২০ জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন এবং ভিয়েতনাম ও নেপালের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার খুলশী থানা ও নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মুঠোফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এসব সরঞ্জাম অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহাম্মেদ বলেন, চীন, লাওস, কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় প্রতারক চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও সহযোগী রয়েছে এবং চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান করছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তবে তারা ঠিক কী ধরনের অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটে তাদের কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
পুলিশ জানায়, ভবনের কয়েকটি ফ্ল্যাটে আটক ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের ‘ডিজিটাল ল্যাব’ তৈরি করেছিলেন। তারা কখন এবং কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তা জানতে তদন্ত চলছে। তাদের পাসপোর্ট উদ্ধার করা গেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকা ও কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হওয়া বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে এই চক্রের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মতামত দিন