যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করেনি, আগেরটিই পুনঃস্থাপন: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ওপর নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপ করেনি বলে দাবি করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, আগে আরোপিত শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সেটিই নতুন নামে পুনঃস্থাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরের উপকণ্ঠে লাক্কাতুরা চা বাগানে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চা শ্রমিকদের জন্য আয়োজিত বিনামূল্যের মেডিক্যাল ক্যাম্প, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ১০ শতাংশ নতুন শুল্ক প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্ক পরিস্থিতির বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগে যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তার মেয়াদ ১৫০ দিন পর শেষ হচ্ছে। সেই শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নামে একই শুল্ক কার্যকর হবে। তাই এটিকে নতুন শুল্ক নয়, বরং আগের শুল্কের পুনঃস্থাপন বলা যায়।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাত ১২টার পরও কার্যত আগের শুল্কই বহাল থাকবে, শুধু নামের পরিবর্তন হবে।’
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, চা বাগান এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ ধরনের মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু থাকলে শ্রমিকরা শহরে না গিয়েই বাগান এলাকায় প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয়ের তথ্যমতে, এসব দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আসে।
মতামত দিন