এমপিদের কেউ ঋণখেলাপি নন, হয়তো কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ সদস্যদের কেউ ঋণখেলাপি নন, কেউ কেউ হয়তো ঋণগ্রস্ত হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে ‘ঋণখেলাপি’ নিয়ে সংসদ সদস্যদের বাদানুবাদের মধ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘এই সংসদ একটা ব্যতিক্রম সংসদ, অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো অনেকেই অসচেতনভাবে হোক, সচেতনভাবে হোক—এমন কিছু কথা সংসদ সদস্যরা উচ্চারণ করি যা আমাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে, বিতর্কিত করে। একজন সংসদ সদস্য বলেছেন ঋণখেলাপিদের সংসদ।’
‘বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, ভেড়া যদি খেত খায় সেই খেত টেকানো যায় না। এখানে নির্বাচিত হয়ে আমরা যদি নিজের মর্যাদা নিজেরা হানি করি আমরা যদি আত্মঘাতী হই...নিজেদের মান-সম্মান হানি হয় এমন কথা যেন অতি উৎসাহী হয়ে আমরা না বলি,’ বলেন তিনি।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে ঋণখেলাপি বিষয়ক বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এরপর বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগেও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরেও আমি প্রথম অধিবেশনের বক্তব্যে কতজন সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি, সেই সংখ্যা উল্লেখ করেছি। তাদের সম্মানের জন্য নাম প্রকাশ করিনি।’
‘যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়িত্ব। সংসদে এতজন ঋণখেলাপি থাকলে, এই সংসদকে ঋণখেলাপিদের সংসদ সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বলবে। আর আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলছি, এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, তাহলে আর কোথায় বলব,’ যোগ করেন তিনি।
ঋণখেলাপি বলা হলে তা এক্সপাঞ্জ হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নয় বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি ইন্টারপ্রিটেশন দেবো। এখানে যারা আছেন কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন, আরপিও এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুযায়ী, আদালত যাদের ঋণখেলাপি হিসেবে সাব্যস্ত করবে তারা এমপি হিসেবে নমিনেশন পাবে না। এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তার মানে ঋণগ্রস্ত হতে পারে, ঋণখেলাপি নন।’
‘যদি কেউ ক্লেইম করেন যে সংসদে ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে—এটা কোনো আইনি ইন্টারপ্রিটেশনে টেকে না। যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের মামলা ছিল। সেগুলো তো নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট থেকে যদি নিষ্পত্তি হয়ে যায় এবং তাকে লেজিটিমেট ক্যান্ডিডেট হিসেবে ঘোষণা করা হয়, তিনি আর ঋণখেলাপি নন,’ বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, এখন আমরা কেন বলছি এটা ঋণখেলাপিদের সংসদ। কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে, কিন্তু ঋণখেলাপি হিসেবে যে এখানে অসম্মান করা হচ্ছে—এটা ডিফেমেটরি স্টেটমেন্ট, আমি মনে করি এক্সপাঞ্জ করা উচিত।’
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর আগে বলেন, ‘সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন একটা পয়েন্ট তুলেছেন। এটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। বিচার-বিশ্লেষণ করে এক্সপাঞ্জ করার মতো হলে, আমরা এক্সপাঞ্জ করব।’
মতামত দিন