লক্ষ্মীপুরে মা ও ৩ মেয়েকে হত্যায় এখনো হয়নি মামলা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশটিও ময়নাতদন্তের জন্য বর্তমানে জেলা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করা যাবে। পরিবারটির একমাত্র বেঁচে যাওয়া সন্তান সিফাত হোসেন এই মুহূর্তে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রায়পুর এবং তাদের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনায় জানাজা শেষে নিহতদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। রায়পুরের একটি ভাড়া বাসায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওই বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তাঁর তিন মেয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে একজন ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা। এ সময় ঘটনাস্থলেই শাহিনুর ও সায়মা মারা যান। পরে আহত শিফা আক্তার (৯) ও ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারা মারা যায়। এ ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেও মারা যায়।
মতামত দিন