Views Bangladesh Logo

নবম পে স্কেলের খসড়া প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়, বেতন বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আরও কিছু প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয় নিষ্পত্তির প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সচিব কমিটির আলোচনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে সব গ্রেডে একই হারে বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল।

নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল বেতন ও ভাতা আলাদা পর্যায়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সচিব কমিটির আলোচনায় প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রিসভার।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ একবারে বাস্তবায়ন করলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আগে জানানো হয়েছিল। পরে বর্তমান ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাটছাঁটের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে।

এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। গত ১৫ জুলাইয়ের বৈঠকের পরও সুপারিশ চূড়ান্ত না হওয়ায় পরবর্তী বৈঠকে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির কথা জানানো হয়েছিল। ফলে মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপনের সুনির্দিষ্ট সময়, বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার এবং বাস্তবায়নের ধাপ সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ