৬ বছরেও হয়নি স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যার বিচার
সাভারের দশম শ্রেণির ছাত্রী নীলা রায়কে তুলে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি মামলার বিচার। ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজওয়ানুজ্জামানের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ১৮ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত নয়জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।
সবশেষ গত ২৪ মে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও সেদিন কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। পরে আগামী ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী শাখাওয়াত হোসেন সানী।
দীর্ঘদিনেও বিচার শেষ না হওয়ায় হতাশ নীলার বাবা নারায়ণ রায়। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি ধার্য তারিখেই আদালতে যেতে হয়, কিন্তু দীর্ঘ সময় পর পর তারিখ পড়ছে। একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তিনি।
নারায়ণ রায়ের ভাষায়, ছয় বছর হয়ে গেলেও তিনি মেয়ের হত্যার বিচার পাননি। তার অভিযোগ, মেয়েকে হত্যার পর মামলার আসামিরা জামিনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে সব হতাশার মধ্যেও তিনি মামলাটির সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার চান।
২০২০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে নীলা ও তার ভাই অলক রায়ের পথরোধ করেন মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ অনুযায়ী, নীলাকে জোর করে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলে নীলা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরদিন নীলার বাবা সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে সাভার মডেল থানার তৎকালীন পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল মিজানুর রহমান, সাকিব হোসেন ও সেলিম পাহলানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ২০২২ সালের ৩ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
নীলার পরিবার জানিয়েছে, মেয়েটি নাচ করত এবং এলাকায় পরিচিত ছিল। তাকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা থেকে সাভার ছেড়ে উত্তরায় গিয়ে বসবাস করছেন তার বাবা-মা।
নারায়ণ রায় বলেন, মেয়েকে হারানোর পর ওই এলাকা ছেড়ে দিয়েছেন তারা। তার আক্ষেপ, জায়গাটি আরও আগে ছেড়ে দিলে হয়তো মেয়েকে হারাতে হতো না।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ প্রশাসনে নানা পরিবর্তন ও সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তা বদলি হয়েছেন এবং কেউ কেউ দায়িত্বস্থল ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করানোসহ বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বিচার দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
মামলার তিন আসামিই একসময় জামিনে ছিলেন। তবে সাকিব হোসেন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২৪ মে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে আসামি সেলিম পাহলানের আইনজীবী ফরিদা ইয়াসমিন লতা দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত যে নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য হয়েছে, তাদের কেউ সেলিমের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলেননি। মূলত মিজানুর রহমানের স্বীকারোক্তিতে তার নাম আসার ভিত্তিতে তাকে মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার মক্কেলের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান আইনজীবী।
মতামত দিন