যমুনার ওপর নবনির্মিত রেলসেতুর নাম পরিবর্তন হচ্ছে
যমুনা নদীর ওপর নবনির্মিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু। তবে উদ্বোধনের আগেই সেতুটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসউদুর রহমান।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নাম এখনও পরিবর্তন হয়নি। তবে উচ্চ পর্যায়ে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেতুর উদ্বোধনের আগে হয়তো রেল সেতুর নাম পরিবর্তন হতে পারে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এটির উদ্বোধন করা হবে।
এ বিষয়ে আল ফাত্তাহ আরও বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৬ শতাংশ। আর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৯৯ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ আমরা ট্রেন চলাচলের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারব। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই এই সেতু রেল চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে চাই। ডিজিটাল কম্পিউটার-বেজড সিগন্যাল ইনস্টল করতে এপ্রিল পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে এই বিলম্বের কারণে রেল চলাচলে সমস্যা হবে না। কারণ সাময়িকভাবে এনালগ সিগন্যাল ব্যবহার করা যাবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে চালু হওয়া যমুনা সেতুতেও পরে রেলপথ যুক্ত করা হয়। তবে ২০০৮ সালে একটি ফাটল দেখা দেওয়ার পর ট্রেনের গতি কম রাখার মতো বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। তাই বর্তমানে ২০ কিলোমিটার গতিতে যমুনা সেতু পাড়ি দিতে হয় ৩৮টি ট্রেনকে। এ ছাড়াও যমুনা সেতুর পূর্ব স্টেশন থেকে কোনো ট্রেন সেতুতে প্রবেশ করলে পশ্চিম স্টেশন প্রান্তে অন্য ট্রেনকে অপেক্ষা করতে হয়।
এসব সমস্যার সমাধানে যমুনা নদীর ওপর নতুন আরেকটি রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিগত সরকার। ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। এরপর ২০২০ সালের আগস্ট মাসে ৯ হাজার ৭৩৪ দশমিক ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে এই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৭৮০ দশমিক ৯৬ কোটি টাকায়। যার মধ্যে ঋণ হিসেবে ১২ হাজার ১৪৯ দশমিক ২ কোটি টাকা দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে