Views Bangladesh Logo

পে-স্কেল নিয়ে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন, বাস্তবায়ন এ বছরেই: অর্থমন্ত্রী

সরকারি চাকুরেদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে চলতি বছরের মধ্যেই এই কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিচারকদের পে-স্কেল পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে

মন্ত্রী বলেন, পে কমিশনের অনেকগুলো দিক আছে তো, আমরা সবগুলো বিবেচনা করছি। আজকে অনেক আলোচনা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং আরও অধিকতর আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আছে।

'বিধায় পরে আমরা আবার বসব। যখন ফাইনাল হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব। পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত যখন আসবে, তখন আপনাদের সাথে তুলে ধরব।'

নতুন পে-স্কেল চলতি বছরেই বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আছে কি না—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, 'সময়মতো হবে। অবশ্যই হবে। এবছরের মধ্যেই হবে। সবই হবে, কিন্তু এখানে তো অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে।'

এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; আরও দিক আছে। যখন পূর্ণাঙ্গ হবে, তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন হবে।:

এর আগে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যে কোনো মুহূর্তে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাত্র ২০ দিন আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

সে সময়ের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সুপারিশ বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি প্রস্তাবগুলো যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই সামাজিক নিরাপত্তা খাতের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন হয়ে পড়ে, ফলে পূর্ববর্তী বাজেটে বেতন বৃদ্ধির জন্য নির্ধারিত অর্থ থেকে ব্যয়ের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছিল।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিজনিত জ্বালানি সংকটে আমদানি ব্যয়ও ক্রমাগত বাড়ছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর সুযোগ আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেও বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি।

২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ১২ বছর পর ২০২৫ সালে নতুন বেতন কমিশন গঠিত হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। কমিশনপ্রধান তখন জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন হবে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়।

সোমবারের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ