Views Bangladesh Logo

মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন আমদানি নীতি আদেশ জারি

আমদানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ব্যবসাবান্ধব করতে নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯’ জারি করেছে সরকার। এতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিদ্যমান কড়াকড়ি শিথিল করার পাশাপাশি আমদানি সহজীকরণ, মুক্ত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সামঞ্জস্য তৈরির বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এ আমদানি নীতি আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০২১-২৪ মেয়াদের আগের আমদানি নীতি বাতিল হয়েছে। নতুন আদেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার নানা জটিলতা কমাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো এলসি ছাড়া পণ্য আমদানির সুযোগ সম্প্রসারণ। আগের নীতিতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিক্রয় বা ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির অনুমতি ছিল। বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত এমন আমদানির সুযোগ থাকলেও নতুন আদেশে সেই নির্দিষ্ট মূল্যসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে ‘সেলস বা পারচেজ কনট্রাক্ট’-এর ভিত্তিতে আমদানির সুযোগ আরও বিস্তৃত হলো।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নতুন নীতিতে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস স্থাপনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলা এবং পণ্য সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনুমোদিত শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেও নতুন নীতিতে বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনা মূল্যে বা ‘ফ্রি অব কস্ট’ ভিত্তিতে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণ আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আধুনিক অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো ‘প্রবাসী বাংলাদেশি’র সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন আমদানি নীতিতে।

এ ছাড়া বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ এবং বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সঙ্গে নীতির সামঞ্জস্য থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদারের সঙ্গে ভবিষ্যতে এফটিএ ও পিটিএ আলোচনায় বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ