Views Bangladesh Logo

শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবেশে আসছে নতুন বিধিনিষেধ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রবেশব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র থাকা যাত্রী এবং তার সঙ্গে সর্বোচ্চ দুজন সঙ্গী ছাড়া অন্য কাউকে বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রবেশপথে পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা তল্লাশি আরও জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএসসি) প্রথম সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। এতে মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে একাধিক সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা মানদণ্ড বাস্তবায়ন, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও স্ক্যানিং সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা হালনাগাদ করা। একই সঙ্গে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষা (অডিট) সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রবেশমুখে দায়িত্বে থাকা এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও অন্যান্য বাহিনীকে প্রতিটি যাত্রী এবং তার সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথি যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে অচল থাকা দুটি আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেম দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ততদিন বিকল্প হিসেবে স্ক্যানিং মিরর ব্যবহার করে যানবাহন তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় ভিআইপি ও সিআইপি লাউঞ্জের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী নিরাপত্তা তল্লাশি নিশ্চিত করা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সম্পাদন, দ্রুত জনবল ও সরঞ্জাম মোতায়েনের স্থায়ী নির্দেশনা এবং বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র‌্যাপিং নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কার্গো ও মেইল তালিকা থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ