নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ হলেন জাভি হার্নান্দেজ
দীর্ঘদিন ডাগআউটের বাইরে থাকার পর অবশেষে কোচিং পেশায় ফিরলেন জাভি হার্নান্দেজ। রোনাল্ড কুমান দায়িত্ব ছাড়ার পর ডাচ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কিংবদন্তি। রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএনভিবি) সঙ্গে চার বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন তিনি, যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ডাচ কোচ হিসেবে জাভির যাত্রা শুরু হবে।
জাভির এই নিয়োগ ডাচ ফুটবলে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে অস্ট্রিয়ার আর্নস্ট হ্যাপেলের পর এই প্রথম কোনো বিদেশি কোচকে জাতীয় দলের মূল দায়িত্ব দিল নেদারল্যান্ডস।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় জাভি জানান, নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। বার্সেলোনা একাডেমিতে বড় হওয়ার কারণে ইয়োহান ক্রুইফ ও রিনাস মিচেলসের ফুটবল দর্শন আমার মধ্যে গভীরভাবে মিশে আছে। বলতে গেলে আমি ডাচ ফুটবলেরই এক সন্তান।
নেদারল্যান্ডসের বিদায়ী কোচ রোনাল্ড কুমানের সঙ্গেও জাভির ক্যারিয়ারের এক চমৎকার সংযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে বার্সেলোনা থেকে কুমান বরখাস্ত হওয়ার পরেই ক্লাবটির দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাভি। কাতারি ক্লাব আল সাদের কোচিং ছেড়ে তিনি তখন কাতালান ক্লাবটিতে যোগ দেন।
জাভির অধীনে ২০২২-২৩ মৌসুমে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতেছিল বার্সেলোনা। তবে ২০২৩-২৪ মৌসুমে দলটি কোনো শিরোপা জিততে না পারায় তাকে সরিয়ে কোচের চেয়ারে বসানো হয় জার্মানির হ্যান্সি ফ্লিককে। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার আগে ২০১৯ সালে আল সাদের ক্লাবে নিজের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং দুটি মৌসুমে ক্লাবটিকে সাতটি ট্রফি জেতান তিনি।
খেলোয়াড় হিসেবে জাভির অর্জনের খাতা ছিল আরও উজ্জ্বল। বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য ট্রফি জয়ের পাশাপাশি স্পেনের ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর অন্যতম মূল কারিগর ছিলেন তিনি। ২০০৮ ও ২০১২ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্প্যানিশ দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন তিনি।
বার্সেলোনা ছাড়ার পর বেশ কিছু ক্লাব ও জাতীয় দলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দায়িত্ব বেছে নিলেন জাভি। ২০২৪ সালের পর এই প্রথম তিনি আবার ডাগআউটে ফিরছেন। নতুন শিষ্যদের ওপর তাঁর অগাধ আস্থা রয়েছে এবং ইউরো ২০২৮-এর শিরোপা লড়াইয়ে প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করার পাশাপাশি ২০৩০ বিশ্বকাপে সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
মতামত দিন