দেশে ১১ মাসে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা আড়াই হাজার: ঐক্য পরিষদ
গত ১১ মাসে দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর ২ হাজার ৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, উপাসনালয়ে হামলা, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার, জোরপূর্বকবাড়ি ও ব্যবসা দখল, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ওপর আক্রমণ, জোরপূর্বকপদত্যাগসহ নানা নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনেআয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এসব তথ্য জানায়।
সংগঠনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়েইসবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটে—মোট ২ হাজার ১০টি। এরপর গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩২টি এবং চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ২৫৮টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ, কিশোর ও কিশোরীরা আক্রান্ত হন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে এসব সহিংসতাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে অস্বীকার করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনার ফলে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ‘আমরা দেখছি, সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এগোচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।’
তিনি জানান, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান বৈষম্য ও নিপীড়ন চিহ্নিত করে তা নিরসনের লক্ষ্যে একটি পৃথক সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের প্রত্যাশা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা হয়নি। এমনকি গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনেও সংখ্যালঘুদের কেউ প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হননি।
তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রস্তাব পাঠানোর পরও তা আমলে নেয়াহয়নি। ১০ শতাংশের বেশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুর প্রতিনিধিত্ব না রেখেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়েনিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে বৈষম্যের শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে।’
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সরকার সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনাকে অবহেলা করছে। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পৃথক সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজল দেবনাথ, জে এল ভৌমিক, সাংগঠনিক সম্পাদক দিপঙ্কর ঘোষ এবং বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিবপলাশ কান্তি দে প্রমুখ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে