হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে হাতিয়ায় এনসিপি-ছাত্রদল হাতাহাতি, আহত ৮
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির সমর্থিত ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক ও দলের কর্মী সমাবেশে হাতিয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে বক্তব্য দেন হান্নান মাসউদ। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, এসব বক্তব্যে তাদের দল সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার তার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগদানকে ঘিরে অবস্থান নেন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হান্নান মাসউদ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ ভবনের গেটে পৌঁছালে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাকে ঘেরাও করেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাকে সভাকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সভা চলাকালে বাইরে আবারও এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে হান্নান মাসউদ সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন ও আজাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরে প্রশাসন, পুলিশ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, সংসদ সদস্য সভায় যাওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা-কাটাকাটি শুরু হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল জানান, দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে গেটে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এনসিপির উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। অন্যদিকে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরীর দাবি, হান্নান মাসউদের বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ করেছেন এবং এ ঘটনায় দলের কোনো পূর্বনির্দেশনা ছিল না।
হান্নান মাসউদ গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাচ্ছিলেন। কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপির নেতা-কর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়ান।
তিনি আরও দাবি করেন, এ সময় একটি ঘুষি তার ঘাড়ে লাগে।
মতামত দিন