Views Bangladesh Logo

প্রতারণা মামলায় কারাগারে এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তার

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর থানায় প্রতারণার মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার। এর আগে সন্ধ্যায় নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন এলাকাবাসী। আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাদিয়া আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জেলা শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। নেত্রকোনা সদর থানার ওসি আবুল খায়ের জানান, সাদিয়া জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

জানা গেছে, সাদিয়া আক্তার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় আবার টাকা আনতে গেলে এলাকাবাসী তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাতে পৌর শহরের বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়, পরে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, 'আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন সাদিয়া। মঙ্গলবার সকালে আমাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবেন বলে তিনি জানান। ওই দিন বিকেলে আরেকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তাই বিচার পেতে মামলা করেছি।'

নেত্রকোনা সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাদিয়া আক্তারকে আটকের কথা তিনি শুনেছেন। সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি এবং এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানান।

পুলিশ হেফাজতে থাকায় সাদিয়া আক্তারের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাঁর মনে হচ্ছে সাদিয়া পরিকল্পিত চক্রান্তের শিকার হতে পারেন। তিনি বলেন, কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাদিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আবুল খায়ের জানান, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আক্তারকে প্রথমে আটক করা হয়, পরে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ