জামায়াতের সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া এনসিপির ভবিষ্যৎ নেই: পদত্যাগী নেতা এরফানুল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৫ আগস্টের আন্দোলনের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং বর্তমানে দলটির সামনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নেই—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির সদ্য পদত্যাগী জেলা নেতা মোহাম্মদ এরফানুল হক।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় বান্দরবান প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তার কয়েকজন কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এরফানুল হক জানান, বান্দরবান আসনে ভিন্ন জেলা থেকে একজন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদেই তিনি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এনসিপি বান্দরবানের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
তিনি বলেন, বান্দরবান আসনে বহিরাগত প্রার্থী দিয়ে এনসিপি জেলার মানুষের আত্মসম্মানে আঘাত করেছে। আগে কোনো নির্বাচনে বান্দরবানে বাইরের জেলা থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। এবার এনসিপি সেই নেতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এনসিপির সাবেক এই নেতা বলেন, জনপ্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকেই আসা উচিত। অন্য এলাকার কেউ স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও আবেগ উপলব্ধি করতে পারেন না।
এরফানুল হক বলেন, বান্দরবানের মতো পাহাড়ি ও সংবেদনশীল এলাকায় স্থানীয় বাস্তবতা না জানলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব নয়। এনসিপি এই সত্যকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রহসনে নেমেছে।
তিনি দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের মূল্য এনসিপিকে আসন্ন নির্বাচনে দিতে হবে এবং এর জবাব জনগণ ব্যালটের মাধ্যমেই দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে এরফানুল হক প্রকাশ্যেই বিএনপির প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরীকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বান্দরবানের মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন করা জরুরি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরফানুল হক বলেন, এনসিপির বর্তমান নেতৃত্ব ২০২৪ সালের আগস্টের গণআন্দোলনের চেতনা থেকে পুরোপুরি সরে গেছে।
তিনি বলেন, এনসিপি এখন আর গণমানুষের দল নেই। এটি বাংলামোটরকেন্দ্রিক কতিপয় ব্যক্তির দলে পরিণত হয়েছে। মাঠের কর্মী, জেলা নেতৃত্ব কিংবা স্থানীয় বাস্তবতার কোনো মূল্য নেই এই দলে।
এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন পদত্যাগী এই নেতা। তিনি বলেন, এনসিপি এখন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। বাস্তবতা হলো—এই পথ ছাড়া তাদের সামনে এখন আর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তবে বর্তমানে দলটি রাজনৈতিকভাবে এতটাই কোণঠাসা যে জামায়াতের ছায়ায় না গেলে তাদের টিকে থাকা কঠিন।
এরফানুল হক জানান, তিনি এনসিপির সব ধরনের দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে এখনো তিনি বিএনপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি।
তিনি বলেন, আমি আপাতত কোনো দলে যোগ দিচ্ছি না। তবে গণতন্ত্র, স্থানীয় নেতৃত্ব এবং জনগণের মর্যাদার প্রশ্নে আমি আপসহীন থাকব।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে