সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্নে ৫ শতাংশ করছাড়, দেরি করলেই অতিরিক্ত কর
আয়কর রিটার্ন দাখিলে এবার সময়ভিত্তিক প্রণোদনা ও অতিরিক্ত করের নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য নীট করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। তবে এ সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে ডিসেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে অতিরিক্ত কর গুনতে হবে।
নতুন ব্যবস্থায় যদি কোনো করদাতার পরিশোধযোগ্য আয়কর এক লাখ টাকা হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তিনি ৫ হাজার টাকা ছাড় পাবেন এবং ৯৫ হাজার টাকা কর পরিশোধ করলেই হবে। একইভাবে ৫০ হাজার টাকা কর হলে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় মিলবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াত পাওয়া যাবে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে করদাতাদের সময়মতো রিটার্ন দিতে উৎসাহিত করতেই চার প্রান্তিকভিত্তিক সুবিধা ও অতিরিক্ত করের এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য নীট করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় মিলবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন দিলে কোনো করছাড় বা অতিরিক্ত কর থাকবে না।
তবে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা, যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু হয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসেই বার্ষিক আয়, ব্যয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়-দেনার তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। কর পরিশোধ করা যাবে ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে। রিটার্ন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদও ডাউনলোড করা যাবে। প্রয়োজনে এনবিআরের কল সেন্টার থেকেও সহায়তা পাওয়া যাবে।
রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এক কোটির বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারী রয়েছেন। গত করবর্ষে ৪৫ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ডিজিটাল করসেবা সম্প্রসারণ এবং নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতেই নতুন প্রণোদনা ও অতিরিক্ত করের এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মতামত দিন