গভীর সাগরে ট্রলারসহ ৬৫ ‘মালয়েশিয়াগামী যাত্রী’ উদ্ধার, ১১ মানবপাচারকারী আটক
সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরের গভীর সাগর থেকে একটি কাঠের বোটসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নৌবাহিনীর দাবি, উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৫ জন অবৈধভাবে মালয়েশিয়াগামী এবং ১১ জন মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য।
বৃহস্পতিবার রাতে সেন্টমার্টিন লাইট হাউজ থেকে প্রায় ৮১ মাইল দূরে একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায় মাছ ধরার ট্রলার ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’। বোটে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হয়।
পরে নিয়মিত টহলে থাকা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোটটি উদ্ধার করে।
নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে ঝুঁকিতে পড়া বোটটিতে পানি ঢুকে পড়েছিল। দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে বোটে থাকা ৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং ৬৫ জনকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার শিকার ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায় নৌবাহিনী।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশকে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রেখে পরে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল। উদ্ধার ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মানবপাচার, চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার সকালে টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় আনা হচ্ছে। তবে তারা তখনও থানায় পৌঁছাননি।
মতামত দিন