নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৭০ টন ক্ষমতার ফ্লোটিং ক্রেন
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অপারেশনাল, লজিস্টিক এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৭০ টন উত্তোলন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডে (ডিইডব্লিউ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্রেনটি নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), নৌবাহিনী ও ডিইডব্লিউর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নৌবাহিনীর চলমান আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ভবিষ্যৎ অপারেশনাল প্রয়োজন বিবেচনায় ফ্লোটিং ক্রেনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩০ জুন কিল-লেইংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
‘বিএনএফসি বলীয়ান’-এর উত্তোলন ক্ষমতা ৭০ টন। ক্রেনটির দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার, প্রস্থ ১৫ মিটার এবং গভীরতা ৩ মিটার। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় সাড়ে ১০ মাইল।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ফ্লোটিং ক্রেনটি জেটি ও সমুদ্রে অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজ এবং অন্যান্য নৌযানের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতি, যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও বিভিন্ন নৌ-উপকরণ উত্তোলন, স্থানান্তর এবং প্রতিস্থাপনের মতো জটিল কারিগরি কাজ আরও দক্ষতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
দেশীয় প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নির্মিত ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতারও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্ল্যাটফর্ম নৌবাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা অর্জন এবং দেশীয় সামুদ্রিক প্রযুক্তির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নৌবাহিনী পরিচালিত ডিইডব্লিউ ইতোমধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতায় বিভিন্ন সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

মতামত দিন