Views Bangladesh Logo

নরসিংদীর ঘটনার পর মাদ্রাসায় মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

নরসিংদীর রায়পুরায় আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশে মেয়েদের আবাসিক মাদ্রাসার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এ ধরনের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় তদারকি, জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, রায়পুরা উপজেলার হাশিমপুর এলাকার একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ও মুহতামিম বর্তমানে পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, অভিযোগের পর মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দুই মাস আগে মেয়েটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। গত শুক্রবার রাতে নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে মাদ্রাসায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।

সারাদেশে বাড়ছে একই ধরনের অভিযোগ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সিরাজগঞ্জ, চাঁদপুর ও কুষ্টিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনায় শিক্ষক বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২০১৯ সালে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও পুনরায় আলোচনায় এসেছে, যা মাদ্রাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে।

তদারকি ব্যবস্থায় ঘাটতির অভিযোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কওমি আবাসিক মাদ্রাসাগুলোর বড় অংশ ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোর ওপর সরকারি নজরদারি সীমিত। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা বা মালিকের একক নিয়ন্ত্রণেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।

বড় বোর্ডগুলোর অধীনে থাকা কিছু মাদ্রাসায় নিয়মিত পরিদর্শন থাকলেও ছোট ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিষ্ঠানে তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার সঠিক সংখ্যা নিয়েও স্পষ্ট তথ্য নেই। এক সময় সরকারি হিসাবে প্রায় ২০ হাজার বলা হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন থেকে মেয়েদের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন জোরদার করা হবে। বিশেষ করে নারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদারকি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে প্রশাসনের একাংশ স্বীকার করছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক সময় সরাসরি হস্তক্ষেপে তারা সতর্ক থাকে, যাতে কোনো অপপ্রচার না হয়।

গবেষক ও ইসলামবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, শক্ত মনিটরিং, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো গেলে এ ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব।

তারা বলছেন, ব্যক্তিগত অপরাধের দায় পুরো মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো উচিত নয়; বরং নির্দিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু অধিকারকর্মীরা বলছেন, আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এজন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং অভিযোগ ব্যবস্থাকে সহজলভ্য করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ