নরসিংদীতে সংঘর্ষ: মেঘনা নদীতে মিলল আরও একজনের মরদেহ
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে। এ ছাড়া মামলা করেছেন নিহত একজনের মা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান।
নিহত আ. লতিফ (৩৫) ওই ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে। তার শরীরে পুলিশের ভেস্ট ছিল।
সংঘর্ষের পরদিন বুধবার রাতে আরেক নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।
স্থানীয়দের তথ্যে জানা গেছে, সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন ওসি মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, গোপীনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে পুলিশ তিনজনের মরদেহ পেয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন ওসি মজিবুর রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) এবং বুধবার বিকালে সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা হতে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সবশেষ লতিফের লাশ পাওয়া গেল।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে স্থানীয় জবা মেম্বারের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘মিস্টার গ্রুপের’ সমর্থক মামুন নামের এক প্রবাসী গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে হত্যা মামলার আসামি জবা মেম্বার, তার সহযোগী আলাল মুন্সি ও তাদের পক্ষের লোকজন পলাতক আছেন। এরপর থেকে দফায় দফায় ভাড়া করা লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল জবা মেম্বারের লোকজন।
মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটে ভাড়া করা অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করেন জবা মেম্বার ও তার সমর্থকরা। এ সময় ‘মিস্টার গ্রুপের’ লোকজন তাদের প্রতিহত করতে যায়। সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে আহত কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও একজন মারা যান। এ ছাড়া দুই দিনে নদীতে ভেসে ওঠে আরও দুইজনের মরদেহ।
মতামত দিন