সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী আইনপ্রণেতা নিশ্চিতসহ পাঁচ দাবি নারী সংহতির
জাতীয় সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী আইনপ্রণেতা নিশ্চিত করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে নারী সংহতি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
নারী সংহতির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদে ৩৩ শতাংশ নারী আইনপ্রণেতা নিশ্চিত করা, ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ডে-কেয়ার সেন্টারের চাহিদা পূরণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক নেওয়ার ব্যবস্থা পুনর্বহাল, ‘বাল্ক প্রকিউরমেন্ট মডেলের’ মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে অর্ধেক দামে স্যানিটারি প্যাড সরবরাহ এবং দ্রুত সংসদে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন পাস করা।
সমাবেশে নারী সংহতির সভাপতি শ্যামলী শীল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নারীদেরও অগ্রণী ভূমিকা ছিল। কিন্তু জুলাই-পরবর্তী রাজনীতি ও রাষ্ট্র সংস্কারে নারীদের সেই অবদানের প্রতিফলন এখনো ঘটেনি।
তিনি বলেন, সংসদে নারীদের সরাসরি নির্বাচন এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ মনোনয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হলেও তা এখনো উপেক্ষিত রয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার বলেন, ঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত সর্বত্র নারীর নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল দাবি। দেশের ৫১ শতাংশ ভোটার নারী হলেও সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত কম। নারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ চান না, নাগরিক হিসেবে ন্যায্য মনোনয়ন ও আসন চান।
নারী সংহতির সহসাধারণ সম্পাদক রেবেকা নীলা বলেন, দেশে সরকারি ও বেসরকারিভাবে যে ডে-কেয়ার সুবিধা রয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ। সন্তান লালন-পালনের সুযোগের অভাবে অনেক কর্মজীবী নারীকে চাকরি ছাড়তে হচ্ছে।
গবেষক মাহিন সুলতান বলেন, শুধু ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নয়, রাষ্ট্রের সব পর্যায়ে নারী-পুরুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মুনা অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা নারীদের পরবর্তী সময়ে নীতিনির্ধারণী জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নতুন ক্ষমতায়ন কাঠামোতে নারীদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।
মতামত দিন