Views Bangladesh Logo

আমরা কেবল সীমান্ত নয়, স্বপ্নও ভাগ করি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ত্রিবেদী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিজের প্রথম বৈঠককে ফলপ্রসূ বর্ণনা করে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত কেবল সীমান্ত নয়, স্বপ্নও ভাগ করে নেয়।’

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো আছে। আমরা ইতিবাচক যে দুই নেতা একসঙ্গে বসলে আলোচনা হবে। গণতন্ত্রে বিষয় থাকবেই—বিষয় না থাকলে সেটা গণতন্ত্রই নয়। কিন্তু জনগণের বিষয় একটাই, সেটা হলো ভালো সম্পর্ক। সম্পর্ক ভালো হলে সেটা উভয়ের জন্যই লাভজনক।’

বৈঠকে দুজন বেশি মিলেছেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে, এমন মন্তব্য করে ত্রিবেদী বলেন, ‘আমি কূটনীতিক নই। এটা যেন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে জনপ্রতিনিধির সাক্ষাৎ। দেখা হওয়ায় আমি খুব আনন্দিত। মনেই হয়নি যে প্রথমবার দেখা করছি। খুব ভালো, খুব বিনয়ী, বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত।’ এমন কোনো সমস্যা নেই যার সমাধান হতে পারে না বলেও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান তিনি।

আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন কি না—এ প্রশ্নে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি ভারতীয় হাইকমিশনার। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

ভারতীয় হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী পথে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান। দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের পথ নিয়ে আলোচনা করে।

এর আগে গতকাল রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ত্রিবেদী। আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

গতকাল ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে (আইভ্যাক) শিশুদের খেলার জায়গা উদ্বোধন শেষে ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘জনগণের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই তাঁকে (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অনেক শ্রদ্ধা করি। তিনি মন থেকে কথা বলেন। আমি তাঁর অনেক বক্তব্য শুনেছি... তিনি জনগণের মানুষ, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও (মোদি) তাই। আমার মনে হয়, দুই নেতা যখন মিলিত হন, অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়। আমার পূর্ণ আস্থা আছে।’

নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেও দুই দেশ গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ৪ আগস্ট ভারত নিশ্চিত করে, বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সময়ই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ব্রিকসের আমন্ত্রণটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আমন্ত্রণের বিষয়ে গত ২৯ জুলাই সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা এটি এখন পর্যালোচনা করছি। সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনাদের সঙ্গে সঙ্গে জানাব।’

এদিকে গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়, যেখানে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংযোগকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বৈঠক শেষে জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করি, তাদের কাছে আরও সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছি।’

গত ৬ আগস্ট পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ঢাকা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পর্ক চাই... কারণ ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয় আছে, অনেক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আছে—পানি, জ্বালানি এবং সীমান্ত—যেগুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।’

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। পানি, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও কনস্যুলার বিষয়সহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা তার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার জানিয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ