নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে বাবা-বোনসহ পাঁচজন
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বাবাসহ পরিবারের পাঁচ জনকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
এরা হলেন নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, বড় বোন বোন ডালিমা, মেজ বোন হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা ও ভগ্নিপতি শহিদুল।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিয়ামতপুর থানায় এ হত্যা মামলা করেন নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ বুধবার সকালে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা বাদী হয়ে গতকাল রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এক দম্পত্তি ও তাঁদের দুই শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)।
ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, থানা হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ এখনো চলছে। হত্যার রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, সিআইডি টিমসহ পুলিশের একাধিক সংস্থা কাজ করছে।
ওসি আরও বলেন, মরদেহগুলো এখনো নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আজ দুপুরের দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে জমি নিয়ে হাবিবুরের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ।
নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নমির উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। সম্প্রতি তিনি একমাত্র ছেলে হাবিবুর রহমানকে বসতভিটাসহ ১০ বিঘা জমি লিখে দেন। অন্যদিকে পাঁচ মেয়েকে দেন ১০ কাঠা করে জমি। এই জমি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাঁদের মধ্যে এই বিরোধ নিয়ে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রামে সলিস বৈঠকও হয়েছে।
মামলার বাদী ও নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘আমার জামাইকে বাড়ি–ভিটা মিলে ১০ বিঘা জমি লিখে দেন তাঁর বাবা। আমার জামাই তাঁর বাবার একমাত্র ছেলে। আমার জামাইকে ১০ বিঘা জমি দেওয়াতেই মূল সমস্যা। এইটা নিয়েই তাঁর বোন-ভগ্নিপতিদের হিংসা শুরু হয়। তখন থেকেই তাঁরা হাবিবুর ও আমার মেয়ের বংশকে নির্বংশ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। জমি নিয়ে বিবাদের জেরে গ্রামে সালিস বসেছিল। সেখানে হাবিবুরের বড় বোন ডালিমার স্বামী ও তাঁর ছেলে আমার জামাই-মেয়েকে হত্যার হুমকি দেন।’
তবে পুলিশ এখনই এব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্তে আসছে না। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ড ডাকাতি বলে মনে হচ্ছে না। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আমরা এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চাইছি না। আশা করছি, খুব শিগগির এই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে এবং আসামিরা গ্রেপ্তার হবেন।’

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে