ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৫৫ জন
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং অন্যজন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিপরীতে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৮ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্যমতে, সম্প্রতি ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো দুজন হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নুর হোসেনের স্ত্রী রাশিদা খাতুন (৪২) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকার মৃত আব্দুল হোসেনের ছেলে জাফর আলী (৭০)।
সূত্রে আরও জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাশিদা খাতুন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোম’ উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হন জাফর আলী এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম’-এর পাশাপাশি তীব্র শ্বাসকষ্ট, সেপসিস, সেপটিক শক ও রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা (ডিআইসি) নির্দেশ করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সর্বমোট ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার মধ্যে পুরুষ ৮৩ জন, নারী ৪২ জন এবং শিশু রয়েছে ৬ জন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে মোট ২ হাজার ১৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জনের মৃত্যু হলো।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এমদাদুল্লাহ খান বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিদিন নতুন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। একই সঙ্গে অনেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
জটিলতা এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে, বিশেষ করে জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে। তাই জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মতামত দিন