মিয়ানমারে সংঘাত, আমদানি-রপ্তানিতে ধস টেকনাফ বন্দরে
সীমান্তের ওপারে চলছে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর সাথে আরাকান আর্মির সংঘাত। যার প্রভাব পড়েছে টেকনাফ বন্দরের আমদানি-রপ্তানিতে। যে বন্দরে বছরে হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত, সেই টেকনাফ বন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে নেমেছে বড় ধরনের ধস। যার কারণে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। বন্দরের জাহাজ ঘাটগুলোতেও বিরাজ করছে শূন্যতা।
টেকনাফ বন্দরের ব্যবসা করা ওমর ফারুক জানান, "মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘর্ষের কারণে পণ্যবাহী জাহাজ আসা-যাওয়া নেই বললেই চলে। বর্তমানে সপ্তাহে দুই-তিনটা ট্রলার আসা-যাওয়া করার ফলে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।"
শুধু ব্যবসায়ীরা না বন্দরের উপর নির্ভরশীল শ্রমিকরাও পড়েছেন বিপদে। শ্রমিকরা জানান, আগে প্রতিদিন এক হাজার থেকে বারশো টাকা আয় করতে পারতেন একেকজন। কিন্তু এখন তা এক সপ্তাহ কাজ করলেও আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। বন্দরের এই অবস্থায় তাঁদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সব মিলিয়ে বেশ দুর্দশায় দিন যাচ্ছে তাঁদের।
টেকনাফ বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন,"গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৪০ কোটি টাকা রাজস্ব ও ৮৫ হাজার মেট্রিকটন মালামাল কম এসেছে। মালামাল কম আসলেও রাজস্ব বেশি আয় হয় এমন পণ্য এলে রাজস্ব গত বছরের মতো আসত।"
মিয়ানমারের আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে আমদানি কমে গেছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, "মিয়ানমারের মঙদু ও আকিয়াবে বর্তমানে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। মূলত মঙদু আর আকিয়াব থেকেই বেশি মালামাল আমদানি-রপ্তানি হত। তাই আগে সহজে তিন থেকে চার ঘণ্টায় ট্রলারগুলো আসতে পারলেও এখন ১৫ ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে আসতে হয়। যার জন্য ব্যবসায়ীদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে এবং রাজস্ব আদায়ও তুলনামূলক কম হচ্ছে।"
টেকনাফ বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত বছর আড়াই হাজারের বেশি ট্রলার আসে। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৯৯টি, ফেব্রুয়ারি মাসে ২২৫টি, মার্চে ১৫৫টি ট্রলার ও এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ৬৪টি ট্রলার বন্দরে এসেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে