সাড়ে ৩ মাস পর হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করল ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার জেরে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগরে অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে জাহাজটি সফলভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হরমুজ প্রণালি পার হয়ে জাহাজটি এখন জ্বালানি (বাংকারিং) সংগ্রহের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক ওয়েবসাইট ‘ভেসেল ফাইন্ডার’-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইরানের কেশম দ্বীপ ও ওমানের খাসাব বন্দরের মধ্যবর্তী হেনগাম দ্বীপের সমান্তরালে অবস্থান করছিল। সে সময় জাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৬ দশমিক ৬ নটিক্যাল মাইল। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর, রাত ১০টা ১০ মিনিটে জাহাজটি হেনগাম দ্বীপ এলাকা পার হয়ে আরও গতি বাড়িয়ে (৭.১ নটিক্যাল মাইল) ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুজাইরাহ বন্দরে যাত্রাাবিরতি শেষে প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে জাহাজটি তার পরবর্তী বাণিজ্যিক গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।
বিএসসির মালিকানাধীন এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি মূলত সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি কোম্পানির অধীনে ভাড়ায় (চার্টার) পরিচালিত হচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে ভেড়ার পরদিনই ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলা শুরু হলে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে জাহাজটি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পারস্য উপসাগরের ভেতরেই আটকা থাকে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। এর মাঝে কয়েক দফায় হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন ক্রু ও নাবিকের সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। দীর্ঘ বন্দিদশা ও উৎকণ্ঠা কাটিয়ে জাহাজটি নিরাপদ জলসীমায় ফিরে আসায় স্বস্তি মিলেছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
মতামত দিন