Views Bangladesh Logo

বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত মুস্তাফা মনোয়ার

ঢাকার বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বরেণ্য চারুশিল্পী ও পাপেট চর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ মুস্তাফা মনোয়ার। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয় বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সাদাত মনোয়ার।

এর আগে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর সোয়া ২টায় অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা।

জানাজায় অংশ নেন অভিনয়শিল্পী আবুল হায়াত, শহীদুজ্জামান সেলিম, সালাহউদ্দিন লাভলু, রাশেদ মামুন অপু, হাবিবুর রহমান খান, খোরশেদ আলম খসরুসহ চ্যানেল আই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আরও অনেকে।

মুস্তাফা মনোয়ারের শেষ বিদায়ের কার্যক্রম শুরু হয় মঙ্গলবার সকালে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গণে, যেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় তার মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণ থেকে নিয়ে আসা হয় শহীদ মিনারে।

এর আগে থেকেই শহীদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষজন, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে এসআই সাইফুল আলমের নেতৃত্বে তাকে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার, সেই সময় বেজে ওঠে করুণ সুরের বিগিউল।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হয় তার কর্মজীবনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

দীর্ঘদিন নানা রোগে ভুগে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যু হয় এই সব্যসাচী শিল্পীর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখে কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে অবস্থা আবার খারাপ হলে তাকে ফের ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। সেখান থেকে আর তিনি ফিরে আসতে পারেননি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ