Views Bangladesh Logo

অভয়নগরে কৃষকদল নেতা হত্যা ঘিরেই মতুয়াদের বাড়িতে আগুন-লুটপাট

শোরের অভয়নগর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটি গ্রামে কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলাম সরদারকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তরিকুলের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়েই অভিযুক্তের বাড়িসহ মতুয়া সম্প্রদায়ের ১৮টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং লুটপাট করে। এ ঘটনার পর ওই এলাকার ভুক্তভোগী পুরুষরা বাড়ি থেকে সরে যান, এখনো বাড়ি ফেরেননি তারা। এদিকে নারীরা রয়েছেন নিরাপত্তহীনতায়।

জানা গেছে, তরিকুলের সমর্থকরা বৃহস্পতিবার (২২ মে) প্রথমে প্রধান অভিযুক্ত পিন্টু বিশ্বাসের তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ওই বাড়ির আশেপাশের আরও ১৫টি বাড়িতেও আগুন দেয়া হয়। সব মিলিয়ে ১৮টি বাড়ি পুড়ে যায়। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ধানের গোলা, রান্নাঘর, বসতঘর, গোয়ালঘর, টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলসহ ঘরের নানা জিনিসপত্র। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শনিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক বাড়িতে শুধু ইটের দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে, ছাউনি থাকলেও ভেতরের সব জিনিস ছাই হয়ে গেছে। গ্রামটিতে পুরুষ সদস্যদের দেখা মেলেনি, অধিকাংশই নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়েছেন। আত্মীয়স্বজনেরা খাবার ও সাহায্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাটি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন। ২৪ মে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি পরিবারের মধ্যে চাল, টিন ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়। ডহর মশিয়াহাটি গ্রামের বারিন বিশ্বাস, মনিশান্ত, সুকৃতি, পরিতোষ, প্রণব, বাসুদেব, প্রতাপ, বিকাশ, অজিত, কামনা রানী, শংকর, শুশান্ত, দিলীপ, বিষ্ণু, মহিতোষ, পবন, বিশ্ব ও শিমুল—এই ১৮ পরিবারের প্রত্যেককে প্রাথমিকভাবে ৩০ কেজি চাল, ৬ হাজার টাকা এবং দুই বান করে টিন দেয়া হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে জেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে জেলা প্রশাসন রয়েছে। প্রাথমিক সহায়তা দেয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও আরও সহায়তা করা হবে।’

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ঘটনার রাতেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। আর আগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের একটি বাড়িতে কৃষক দল নেতা তরিকুল ইসলামকে (৫০) কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘেরের ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। তরিকুল ইসলাম উপজেলার ধোপাদী গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে। তিনি উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ