Views Bangladesh Logo

পরকীয়ার জেরে খুন, মামলার আসামি শেখ হাসিনা

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬৭ জনকে আসামি করে করা একটি হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে উঠে এসেছে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক নয়; বরং পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর শ্রীপুর থানায় প্রথম মামলা করেন নিহত সাঈদের চাচা রাশিদুল ইসলাম। ওই মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২ অক্টোবর রাতে একটি সেলুনের ভেতরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আবু সাঈদকে। মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন খলিল নামের এক ব্যক্তি।

তবে এক মাস পর সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্ণনায় গাজীপুর আদালতে আরেকটি মামলা করেন নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্ট শ্রীপুর ফ্লাইওভার এলাকায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তার ছেলেকে গুলি ও চাপাতির আঘাতে আহত করা হয় এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

একই ঘটনার দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শাহ কামাল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হন, আবু সাঈদের সঙ্গে পাশের এলাকার এক বিবাহিত নারীর সম্পর্ক ছিল এবং সেই বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করা হয়। রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসার পর রফিকুল ইসলাম নিজের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, এক আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ১৬৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন। তবে ওই আইনজীবীর নাম প্রকাশ করেননি।

তিনি আরও স্বীকার করেন, তার ছেলেকে সেলুনের মধ্যেই হত্যা করা হয়েছিল এবং মামলায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে, তাদের অনেককেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না। পরে স্থানীয় পুলিশের পরামর্শে আদালত থেকে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান থাকলেও এখন পর্যন্ত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা বড় ঘটনার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক মামলায় রূপ দেওয়ার প্রবণতা বিচারব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ