মে মাসে একাধিক তাপপ্রবাহ ও তীব্র কালবৈশাখীর আভাস
দেশজুড়ে মে মাসে একাধিক তাপপ্রবাহের পাশাপাশি তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি বলছে, এ মাসে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
রোববার (৩ মে) প্রকাশিত মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানানো হয়, মাসজুড়ে ১ থেকে ৩টি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, মে মাসে ৬ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে। এরপর দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাসজুড়ে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ৫ থেকে ৬ দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে, যার মধ্যে ২ থেকে ৩ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মে মাসে বঙ্গোপসাগর-এ ১ থেকে ২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে মাসের শেষার্ধে এ ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মে মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক থাকতে পারে। দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানিপ্রবাহও স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদীর পানি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। যেখানে স্বাভাবিক গড় বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার, সেখানে বাস্তবে রেকর্ড হয়েছে প্রায় ১৯৬ মিলিমিটার।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে বরিশালে ১৬৯.৫ শতাংশ, ময়মনসিংহে ১৫০.৯ শতাংশ এবং সিলেটে ১০৪.৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বায়ুর সংযোগের কারণে এপ্রিলজুড়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাত, দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিও দেখা গেছে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে অবস্থান করা তাপীয় লঘুচাপের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে মেঘের সৃষ্টি হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে