‘মুখ ও মুখোশ’র গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট মেয়ে ও সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।
রুমানা ইসলাম বলেন, 'মায়ের বয়সজনিত অসুস্থতা ছিল। ৭ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বয়সজনিত সমস্যার সঙ্গে নিউমোনিয়ার সংক্রমণও দেখা দিয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।'
মাহবুবা রহমানের মরদেহ মগবাজারে তার বাড়িতে রাখা হয়েছে, যেখানে তিনি শ্রুতি স্টুডিও পরিচালনা করতেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
মাহবুবা রহমান ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো গান প্রচার করেছিলেন। তিনি ১৯৫০ ও ১৯৭০-এর দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রে খ্যাতনামা কণ্ঠ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। প্রধানত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানের ক্ষেত্রে তিনি নিখুঁত শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর জন্য সমর দাসের সুরে গান ‘মনের বনে দোলা লাগে’-এ তার কণ্ঠ জাতীয় খ্যাতি এনে দেয়। এরপর তিনি আব্বাসউদ্দীনের সুরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ ছবির ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গান করেন। এছাড়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘জাগো হুয়া সাবেরা’ ছবিতে তিমিরণের সুরে ‘মোতি হো কে শিশা যো টুট গ্যায়া’ গানটি তার কণ্ঠে শোনা যায়।
তিনি নিজের সংগীতগুরু মমতাজ আলী খানের সুরে বহু গান রেকর্ড করেছেন। দ্বৈত কণ্ঠে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তার গানগুলো হলো ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’-এর ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’।
স্বামী খান আতাউর রহমানের সঙ্গে প্রথম রেডিওতে তিনি গেয়েছিলেন ‘আমার থাকত যদি পাখির মতো ডানা’। ১৯৬১ সালে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে মাহবুবা রহমানের গানগুলো হলো ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ ও ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’। ১৯৬৮ সালে করাচি হিজ মাস্টার ভয়েস থেকে খান আতাউর রহমানের সুরে তার আরও কিছু গান রেকর্ড হয়, যেমন—‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘আমার না-বোলা কথা’, ‘সোনালি এই ধানের খেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদি’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’, ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’ এবং ‘আমার মন ভালো না গো প্রাণ ভালো না গো’।
মাহবুবা রহমানের অবদান বাংলাদেশের সঙ্গীত ও চলচ্চিত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে