Views Bangladesh Logo

গৃহবধূকে হত্যা করে নিজেই বিচার চাইলেন মুয়াজ্জিন

টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা এবং গণমাধ্যমে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো স্থানীয় এক মসজিদের মুয়াজ্জিনই এই হত্যার মূল অভিযুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া মো. মোশারফ হোসেন (৪২) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খানের আদালতে তার স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত নাজমা আলম টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসিন্দা ও ভেটেরিনারি চিকিৎসক শফিউল আলমের স্ত্রী। গত রোববার সকালে স্বামী কর্মস্থলে যাওয়ার পর তিনি বাসায় একা ছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গৃহকর্মী এসে তাকে হাত বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় সোফায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে দেখতে পান, তার শরীরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং বাসার সিসিটিভির ডিভিআর মেশিন নিখোঁজ। মনিটরও ভাঙচুর করা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি নাজমা আলমের কাছে টাকা ধার চাইতে যান। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বেসিনের পাশ থেকে একটি হাতুড়ি এনে তার মাথায় আঘাত করেন। পরে ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে গেলে তার হাত বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মোশারফ নাজমা আলমের দুটি স্বর্ণের বালা, একটি স্বর্ণের চেইন এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যান। এরপর আলামত নষ্ট করতে সিসিটিভির ডিভিআর খুলে নিয়ে যান এবং মনিটর ভেঙে ফেলেন। পরে ব্যবহৃত পোশাক ধুয়ে ফেলে স্বাভাবিক আচরণ করতে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এমনকি গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানান।

তদন্তে আরও জানা যায়, লুট করা স্বর্ণালংকার স্থানীয় এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছিলেন মোশারফ। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের থাকার কক্ষ থেকে নগদ ২৬ হাজার ৩২০ টাকা এবং হত্যার সময় ব্যবহৃত পোশাক জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ