স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্তি কার্যক্রম স্থগিত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্তির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এমপিওভুক্তির কার্যক্রম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আপাতত স্থগিত।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে নতুন করে স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করায় নানা প্রশ্ন ওঠে। ‘তড়িঘড়ি’ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ‘প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচিত’ ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত করতে অর্থ বরাদ্দ চেয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে বছরে প্রায় ৬৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হতো।
এদিকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হলেও সেই প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে স্থগিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
উল্লেখ্য, ‘মান্থলি পে অর্ডার’ (এমপিও) ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি খাত থেকে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে সেখানে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো।
বর্তমানে সারা দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৩১ হাজার ৮২৬টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে।
বেতন-ভাতা না পাওয়ার দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকদের টানা দুই মাসের আন্দোলনের পর বিভিন্ন বিধান সংশোধন করে নতুন এমপিও নীতিমালা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই নীতিমালার আওতায় গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়। এতে ৩ হাজার ৬১৫টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজ আবেদন করে।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে যোগ্য বিবেচনা করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে