Views Bangladesh Logo

সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি

দেশে বিগত সাড়ে ছয় বছরে (২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত) মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫,৭০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১৪,০০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন (আরএসএফ) এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই সময়কালে দেশে মোট ১৬,০৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে ৩,৫৪৮টি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে ৫,৪৯৭টি ঘটে এবং ৬,৩১৪টি দুর্ঘটনায় ভারী যানবাহন জড়িত ছিল। এছাড়া অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনার পেছনে একক দায় বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৬.২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য মোটরসাইকেলচালকরা নিজেই দায়ী ছিলেন। বাকি দুর্ঘটনার মধ্যে পণ্যবাহী যানবাহনের দায় ৪০.৩৪ শতাংশ, বাস ১৩.৪৭ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ৪.৫৫ শতাংশ, প্রাইভেটকার ও সমজাতীয় যান ২.৭২ শতাংশ, বাইসাইকেল ও রিকশা ০.৭৬ শতাংশ এবং পথচারীদের দায় ১.৮৪ শতাংশ।

সড়কভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৬,৬৮৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া জাতীয় মহাসড়কে ৪,৭৭৩টি, শহর এলাকার সড়কে ২,৬৪৬টি এবং গ্রামীণ সড়কে ১,৯৫৭টি দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট যানবাহনের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল, যার একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণরা চালায়। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চটকদার বিজ্ঞাপন এবং গতির প্রতি তীব্র আকর্ষণ এই প্রবণতাকে উসকে দিচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতদের ৫৮ শতাংশের বয়সই ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৩০ গুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব ও তীব্র যানজটের কারণে মানুষ ক্রমেই মোটরবাইক ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা মৃত্যুর হার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ; অথচ ভালো মানের হেলমেট ব্যবহারে মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া বাইক চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া মোটরসাইকেল মহড়ার সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক প্রচারণার অভাব, অপরিকল্পিত সড়ক অবকাঠামো, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী গণপরিবহনের সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মানসম্মত হেলমেটের বাধ্যতামূলক ব্যবহার, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, নিরাপত্তা প্রযুক্তির সংযোজন, সচেতনতা বৃদ্ধি, মানসম্পন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, দায়িত্বশীল মোটরসাইকেল বিজ্ঞাপন ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা।

বছরের হিসাব পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১,৩৮১টি দুর্ঘটনায় ১,৪৬৩ জন এবং ২০২১ সালে ২,০৭৮টি দুর্ঘটনায় ২,২১৪ জন নিহত হন। ২০২২ সালে ২,২৯৭টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩,০৯১ জন প্রাণ হারান। ২০২৩ সালে ২,৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২,৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২,৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২,৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩,০২৯টি দুর্ঘটনায় ২,৬৭১ জন নিহত হন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে (জুলাই পর্যন্ত) ১,৩১১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১,১৭৭ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ