‘বংশধর’ রাখার প্রয়োজনে’ জুলাই শহীদের ভাতায় বাবার দ্বিতীয় বিয়ে, অনুদান স্থগিত চান মা
জুলাই আন্দোলনে ‘শহীদ’ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তার মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করেছেন, তার অনুমতি ছাড়াই স্বামী শেখ আবদুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং ছেলের নামে পাওয়া সরকারি অনুদান ও মাসিক ভাতার অর্থের অপব্যবহার করছেন। এ অভিযোগে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বামীর কর্মস্থল আলফা গ্রুপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে তার স্বামীর নামে বরাদ্দ সরকারি অনুদান ও মাসিক ভাতা স্থগিতেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।
মমতাজ বেগমের দাবি, ২২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। একমাত্র ছেলে শাহরিয়ার ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হওয়ার পর পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে সেই শোকের পরিবারের মধ্যে নতুন সংকট তৈরি করেছে। তার অভিযোগ, ছেলের অনুদানের অর্থ ব্যয় করেই দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ‘জুলাই শহীদ’ পরিবারের জন্য বরাদ্দ এককালীন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের অর্ধেক করে স্বামী-স্ত্রী পেয়েছেন। এছাড়া মাসিক ২০ হাজার টাকার ভাতার মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে পৃথক হিসাবের মাধ্যমে তাদের দেওয়া হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেখ আবদুল মতিন। তিনি বলেন, প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই তিনি বৈধভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার দাবি, চিকিৎসকদের মতে প্রথম স্ত্রীর আর সন্তান ধারণের সক্ষমতা নেই। পরিবারের চাপ এবং বংশধর রাখার প্রয়োজন থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শহীদ ছেলের অনুদানের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় এবং স্ত্রীর প্রাপ্য অর্থে তিনি কখনও হাত দেননি।
মমতাজ বেগম বলেন, মেসেঞ্জারে অভিমান করে লেখা একটি বার্তাকে আমার স্বামী সম্মতির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ের বৈধ অনুমতি হতে পারে না।
শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১৮ বছর। পরে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনি জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
মতামত দিন