হালদায় নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ, পুরোপুরি ছাড়ার অপেক্ষায় সংগ্রহকারীরা
চট্টগ্রামের হালদা নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। যেকোনো সময় মা মাছগুলো পুরোপুরি ডিম ছাড়বে- এ আশায় ডিম সংগ্রহে তিনদিন ধরে নদীতীরে অপেক্ষায় আছেন সংগ্রহকারীরা।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদায় জো’র সময় বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়িঢল নামলে পুরোদমে ডিম ছাড়ে মা মাছ। এপ্রিলে শুরু হয়ে তিনটি জো শেষে এখন ডিম ছাড়ার চতুর্থ জো চলছে। এ জো আরও দুই-তিনদিন চলবে। চলমান জোতে মা মাছ যেকোনো সময় পুরোদমে ডিম ছেড়ে দেবে- এ আশায় ডিম সংগ্রহের যাবতীয় সরঞ্জাম নিয়ে শত শত ডিম সংগ্রহকারী অপেক্ষমান নদীতীরে।
বুধবার (২৮ মে) বিকেলে গেলে ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, রাতেই পূর্ণ জোয়ারে হয়তো মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে।
ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, সোমবার (২৬ মে) রাতে নমুনা ডিম ছেড়েছিল মা মাছ। সে সময় হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা নয়াহাট, আজিমের ঘাট, নাপিতের ঘাট, কাটাখালী ও ফাঁড়ির মুখ এলাকায় ডিম সংগ্রহকারী আব্দুল কাদের, হোসেন, মুন্সির জালে অল্প সংখ্যক নমুনা ডিম ধরা পড়েছে।
জোয়ারের পর পর ডিম সংগ্রহকারীরা নদী থেকে উঠে গেলেও মঙ্গলবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে আটটা ও দুপুরে আবারো নদীতে জাল ফেলে অপেক্ষা করেছিলেন ডিমের। তবে এদিনও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তপ্ত রোদ থাকলেও বজ্রসহ বৃষ্টি না হওয়ায় কোনো ডিম ছাড়েনি মা মাছ। তবে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সারাদিনের তপ্ত রোদকে বিদায় জানিয়ে শুরু হয় বজ্রসহ বৃষ্টি।
আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় বুধবার রাতেই মা মাছের পুরোদমে ডিম ছাড়া এবং সেগুলো সংগ্রহের সম্ভাবনার কথা জানান ডিম সংগ্রহকারী গড়দুয়ারা নয়াহাটের কামাল সওদাগর, মাছুয়াঘোনার শফি ও আবু তৈয়ব, রামদাশহাটের হোসেন এবং ফাঁড়ির মুখের হারেস।
হাটহাজারী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার রাতে কয়েকটি স্থানে অল্প সংখ্যক ডিম পেয়েছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। বুধবার রাতে জোয়ারের সময় পুরোদমে ছাড়ার সম্ভাবনা আছে, যদি পরিবেশ অনূকুলে থাকে। তিনটি সরকারি তিনটি হ্যাচারি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে