Views Bangladesh Logo

বগুড়ায় শিক্ষার্থীদের অবরোধের কবলে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স, চরম ভোগান্তি

গতকাল সোমবার দুপুর ১টার দিকে মারা যাওয়া মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ির পথে রওনা দেন স্বজনরা। তবে বনানী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধে শত শত যানবাহনের সঙ্গে আটকে পড়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটিও।

এ সময় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মৃতের এক স্বজন সাংবাদিকদের বলেন, বেলা ১২ টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে বের হন তারা। দুপুর ২ টার দিকে জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখানেই দুই ঘণ্টা ধরে আটকে আছেন। কী হবে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না তারা।

একইভাবে ভোগান্তিতে পড়েন পণ্য পরিবহন শ্রমিকরাও। বগুড়া শহরের খান্দার থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জালশুকা এলাকায় ভ্যান বোঝাই রড নিয়ে যাচ্ছিলেন চালক রেজওয়ান।

তিনি জানান, আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সড়কে আটকে রয়েছেন। সড়কে বিশৃঙ্খলা থামাতে সরকারের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। এভাবে দেশ চলতে পারে না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দাবি আদায়ে বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের বনানী বেতগাড়ী এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে যায়। দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরমে পৌঁছে। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পথচারী, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ১৫ মিনিটের মধ্যে সড়ক ছাড়ার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় শেষে দুপুর ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ফিরে যান। তবে এরপরও যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় লাগে।

যাত্রীবাহী বাসের অন্তত ২০ জন কর্মচারীর-যাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কেউ দুই ঘণ্টা, কেউ তিন ঘণ্টা, আবার কেউ তারও বেশি সময় ধরে অবরোধে আটকে ছিলেন। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীরা চরম কষ্ট সহ্য করেছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, এটা কোনো দেশের নিয়ম হতে পারে না। দেশে কী কোনো সরকার নেই? নির্বাচিত সরকার ছাড়া বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাদের দাবি আদায়ের আন্দোলন তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে করুক।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ নিয়ে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করলেও সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের ১০ম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া বৈষম্যমূলক আচরণ। এতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। আগে এসব পদ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নীতিমালা পরিবর্তন বাতিল না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ