শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা: অভিযুক্ত জাকিরের বাড়ি ফের ভাঙচুর
সিলেটে চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত জাকির হোসেনের বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে ‘বিক্ষুব্ধ জনতা’।
শুক্রবার (১৫ মে) জুমার নামাজের পর মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জাকিরের বাড়িতে ফের হামলা চালান। এসময় তারা জাকিরের বসতঘর ভেঙে ফেলেন।
জাকির হোসেন সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ফাহিমা জাকিরের প্রতিবেশি দিনমজুর রইসুল হকের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু ফাহিমার খুনি জাকিরের ফাঁসির দাবিতে আজ জুমার নামাজের পর এলাকায় মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে এলাকাবাসী এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জাকিরের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এরপরে মানববন্ধন থেকে মিছিল সহকারে এলাকাবাসী জাকিরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা জাকিরের ঘরের বেড়া, চাল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন।
খবর পেয়ে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিলে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, জুমার নামাজের পর মানববন্ধন শেষে এলাকার লোকজন গিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করেন। তিনি জানান, এর আগেও জাকিরকে গ্রেফতারের পর এলাকার লোকজন তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন। ওই সময় বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাতে পুলিশও লাঞ্ছিত হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার। দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১১ মে রাতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফাহিমার প্রতিবেশি জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
পরে জাকির হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। সে জানায়, সিগারেট আনতে সে ফাহিমাকে দোকানে পাঠিয়েছিল। দোকান থেকে ফেরার পর ফাঁকা ঘরে সে ফাহিমাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে গলাচেপে হত্যা করে। এরপর দুদিন মরদেহ ঘরে রাখে। গুম করতে না পেরে পরে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ের বাঁশ ও নারিকেল গাছের নিচে ফেলে আসে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে