Views Bangladesh Logo

ময়মনসিংহ মেডিকেল ছাত্রাবাসে সংঘর্ষ: ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, তদন্ত কমিটি গঠন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা শেষে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী সাত দিনের জন্য সব প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে অধ্যাপক সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে সভাপতি করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— অধ্যাপক শামীমুল মাসুদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল হক। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষে আহত দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে মো. মুয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শিক্ষার্থী মীর হামিদুর মমেক হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। দুজনই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কলেজের বাঘমাড়া ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে। আহত মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহর অনুসারী এবং মীর হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপের অনুসারী বলে পরিচিত।

ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে মীর হামিদুরের কক্ষে মুয়াজের সাথে তার কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর বাইরে চা খেতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে স্টিলের পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এ সময় হামিদুরের পক্ষের লোকজনের ধাওয়া খেয়ে একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন মুয়াজ। তাকে উদ্ধার করতে তার পক্ষের লোকজন এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ