মার্কিন নির্বাচনের আগে ভয় ও অবিশ্বাস ছড়াচ্ছে ভুল তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগমুহূর্তে ভোটদান ও জালিয়াতির অভিযোগ তোলা গুজব ও ভুল তথ্যে ভরে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের অনাস্থা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এসব পোস্টের বেশিরভাগই রক্ষণশীল গোষ্ঠীর; কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের কিছু পোস্টে সম্ভাব্য অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা ২০২০ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরাজয়ের মতোই তাকে অন্যায়ভাবে জয় থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে বলে দাবি জোরদার করছেন।
মার্কিন সরকার বলছে, রুশ প্রভাবশালীরাসহ বিদেশি গোষ্ঠীগুলোও সন্দেহ উসকে দিতে ভুয়া ভিডিও ছড়াচ্ছে।
মঙ্গলবারের (৫ নভেম্বর) ভোটের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে দেশজুড়ে মিথ্যা দাবি খণ্ডনে ব্যস্ত নির্বাচনি কর্মকর্তারাও। ভোটারদের সঠিক তথ্যের জন্য বিশ্বস্ত সূত্রে নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বলেছেন, ভোট সুরক্ষায় কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।
পেনসিলভানিয়ায় ব্যালট টেম্পারিংয়ের পরামর্শ দিয়ে পোস্ট করা একটি ভুয়া ভিডিও’র উদাহরণ দিয়ে কর্মকর্তারা বলেছেন, ভিডিওটিতে একজন ডাককর্মীকে মেইল-ইন ব্যালট সরবরাহ করতে দেখা গেছে। তবে তারা সত্যটি স্পষ্ট করার আগেই এটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব গুজব নির্বাচনের ফলাফলের ওপর মানুষের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি ২০২০ সালের ঘটনাগুলোর মতোই, যখন ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলছিল। ওই বছরের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গায় সেটি শেষ হয়। এখন ট্রাম্পের কিছু সমর্থক বলছেন, কেবল প্রতারণাই তাকে জয়ী হওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।
যদিও নির্বাচনে ছোটখাটো ভুল বা জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, তবে এগুলো অনলাইনে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, যা ভুল তথ্যের বন্যা বাড়িয়ে তুলছে। ট্রু দ্য ভোটের মতো গোষ্ঠীগুলো জনগণকে কথিত বিষয়গুলো দেখতে এবং পোস্ট করতে উত্সাহিত করছে। ইলন মাস্কের আমেরিকা পিএসিসহ অন্য গোষ্ঠীগুলোকেও ভোটারদের সঙ্গে গুজব এবং অভিযোগ শেয়ারের অভিযোগ উঠছে জোরেসোরে।
তবে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ব্যালট গণনায় সম্ভাব্য বিলম্বের পূর্বাভাস দেয়ায় বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভুল তথ্য নির্বাচনের দিনের পরেও অব্যাহত থাকবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে