মেহেরপুরে মাদ্রাসায় শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বাসরোধে হত্যার সন্দেহ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার একটি এতিমখানা ও মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী হাসাইন (৯)-এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যুকে ঘিরে শ্বাসরোধে হত্যার সন্দেহের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত হাসাইন গাংনী উপজেলার আজান গ্রামের বিপ্লব হোসেনের ছেলে। তিনি গাংনী এতিমখানা ও মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
এতিমখানার সহকারী শিক্ষক তাওহিদুল ইসলাম জানান, সকালে অন্য শিক্ষার্থীরা ফুলবাগানে কাজ করছিল, আর হাসাইন কক্ষে ছিল। কিছুক্ষণ পর তার নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মিজানুর রহমান জানান, সকালে নাশতা শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা বাইরে কাজে গেলেও হাসান কক্ষে অবস্থান করছিল। কিছুক্ষণ পর দুই শিক্ষার্থী কক্ষে ফিরে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। সে সময় তার মুখে রক্তের দাগ ছিল। পরে দ্রুত গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরও দাবি করেন, শিশুটি কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল।
তবে এতিমখানার একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, তারা হাসাইনকে কক্ষের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেছে। এ কারণে ঘটনার বর্ণনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহাবুব নয়ন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার সন্দেহ হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
খবর পেয়ে গাংনী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোরশেদ চৌধুরী জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের কাজ চলছে।
এদিকে শিশুটির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাসপাতালের মর্গে ছেলের মরদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা বিপ্লব হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে এতিমখানায় দেওয়াই কাল হলো। লেখাপড়া করতে দিয়ে আমার ছেলে মরেছে।’
মতামত দিন