২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ট্রান্সফার করবেন: ডিএফওকে মন্ত্রীর ফোন
সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করতে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে জনসম্মুখে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফও নাজমুল আলমকে এই নির্দেশ দেন তিনি।
ফোন করার আগে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বন বিভাগকে দালালমুক্ত করব। বন বিভাগের যেসব কর্মকর্তা ঘুষ খাবে এবং ঘুষ না পেলেই মানুষের নামে মামলা করবে, তাদেরকে দেখব।’ এরপর ক্ষুব্ধ কণ্ঠে যোগ করেন, ‘ওরে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) সবার আগে মামলায় ঝোলাব ঘুষখোর।’
এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে লাউড স্পিকারে ডিএফওর সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের সখীপুরের হলুদিয়া চালায় একটি টিনের দোকান ছিল। এখানে আপনার রেঞ্জার এমরান দালালদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। হয়তো তারা এখানে আগের চেয়ে একটু বড় করে ঘর দিয়েছিল। সেখানে আপনার রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান টাকা বেশি পায় নাই অথবা নিজের গা বাঁচাতে গরিব মানুষের সেই ঘর ভেঙে দিয়েছে। কাজেই, সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন, এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইল।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি (সংসদ সদস্য) আছি, আমার এলাকার মানুষকে আমি হয়রানি করতে দেব না। আমি এই আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমাকে ভোট দিয়েছে। অতএব, কাউকে আমি হয়রানির শিকার হতে দেব না।’
শেষে তিনি বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়। আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে এখান থেকে তুলে নেবেন এবং একজন ভালো মানুষকে এখানে দায়িত্ব দেবেন।’
এ নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, ‘আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। ওই ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষার কাজ করব।’ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগকেও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়া চালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। এলাকাবাসীর দাবি, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমেই তাঁরা ওই জমির বৈধ মালিকানা পেয়েছেন—অন্যদিকে বন বিভাগের বক্তব্য, জমিটি সংরক্ষিত বনভূমির অন্তর্ভুক্ত।
মূলত আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে সখীপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই দীর্ঘদিনের বিরোধেরই জেরে ভাঙা হয়েছে হলুদিয়া চালা বাজারের সেই ঘরটি।
মতামত দিন